• বিজেপির ভাষায় তোপ কমিশনের, মুখোশ খুলুন: তৃণমূল
    বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ঘড়ি ধরে সাত মিনিটের বৈঠক। তারই মধ্যে বেঁধে গেল ধুন্ধুমার! জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য, ‘সোজা বলছি শুনে রাখুন।’ ডেরেক ও’ব্রায়ানেরও পালটা তোপ, ‘আমরাও সোজা কথা সোজাভাবেই বলছি। মুখোশটা এবার খুলে ফেলুন।’ জ্ঞানেশ বলছেন, ‘ডোন্ট শাউট। গেট লস্ট।’ তো ডেরেকও ‘শাট আপ’। বুধবার এমনই উত্তপ্ত কথোপকথনের সাক্ষী রইল দিল্লির নির্বাচন সদন। বাংলায় ভোট ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল। সেই বৈঠকেই জ্ঞানেশের সঙ্গে মুখোমুখি লেগে গেল ডেরেকের। আর ওই ঘটনার পরই কমিশনের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডলে লেখা হল, ‘তৃণমূলকে সোজাসুজি জানানো হচ্ছে যে, এবারের পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে, ভয়হীন, ছাপ্পাহীন, হিংসা রহিত, প্রলোভনহীন, বুথ ও সোর্স জ্যামিং ছাড়া।’ 

    পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন। প্রত্যেক রাজ্য নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছে কমিশন। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই এমন বেআব্রুভাবে ভোটের নামে শাসক দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি তারা। নেওয়ার কথাও নয় সাংবিধানিক সংস্থার। কিন্তু বেনজির এই আক্রমণে বিজেপি বিরোধী সব পক্ষই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে। আম আদমি পার্টি সরাসরি কমিশনকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে তোপ দেগেছে। কংগ্রেস বলেছে ‘গণতন্ত্রের হত্যাকারী’। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই খসড়া কি বিজেপি অফিস থেকে তৈরি হয়ে এসেছে?’ আবার কেউ বলেছেন, ‘কমিশন তো বাংলায় নিজেই ভোটে লড়ছে বলে মনে হচ্ছে।’ আর তৃণমূলের উত্তর, ‘মুখোশটা এবার খুলে ফেলুন।’ এছাড়াও তৃণমূলের পোস্ট, ‘এবারের নির্বাচন হতে হবে: দিল্লির নিয়ন্ত্রণমুক্ত, রাজনৈতিক পক্ষপাতহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে নিশানা করা থেকে মুক্ত এবং অবশ্যই দ্বিচারিতামুক্ত।’ ফলে এই একটি ইস্যুতে গোটা দেশ এদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ক্ষুব্ধ ডেরেকের আক্রমণ, ‘জ্ঞানেশ কুমার চোর, ক্রিমিনাল। বিজেপির বি-টিম। মোদি-শাহের দালাল। ভ্যানিশ কুমার জানেন না, কার সঙ্গে লড়তে নেমেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আর তৃণমূলকে ধমকে চুপ করানো যাবে না। বাংলার মানুষ ভোটবাক্সে জবাব দিতে মুখিয়ে আছে।’ 

    দলের পক্ষে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর দেওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এদিন নির্বাচন কমিশনে যান ডেরেক, সাগরিকা ঘোষ, মানেকা গুরুস্বামী এবং সাকেত গোখলে। তাঁদের দেখেই দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে পাশে রেখে জ্ঞানেশ কুমারের কটাক্ষ, ‘আপনাদের অথরাইজড পার্সন তো আসেননি দেখছি।’ এ কথা শুনে অপমানিত বোধ করেন প্রতিনিধিরা। ডেরেক বলেন, ‘তাহলে কি আমরা বেরিয়ে যাব? তবে তার আগে আমাদের দাবি জানিয়ে দিই। আমরা আশা করব যে এবার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’ তখনই ডেরেককে থামিয়ে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘এক মিনিট। আমি বলি? আমরা এবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে বাংলার নির্বাচন...।’ কথা শেষ করার আগেই পালটা ডেরেক বলেন, ‘আপনার কথা তো অনেক শুনেছি। পাশে বসা দুই কমিশনারদেরও কিছু অন্তত বলতে দিন। আপনি তো মুখে অনেক কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো ফল দেখি না। আর আপনাকে অভিনন্দন, ভারতের ইতিহাসে আপনিই প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যাঁকে পদচ্যুত করার নোটিস জমা পড়েছে।’ তখনই খেপে ওঠেন জ্ঞানেশ কুমার। বলেন, ‘আপনি এভাবে গলা তুলে কথা বলবেন না। এই ঘরে কেউ এভাবে কথা বলতে পারেন না। ডোন্ট শাউট।’ ডেরেকও চুপ থাকেননি। পালটা বলেন, ‘আমি কোন স্বরে কথা বলব, সেটা আপনি শেখাবেন না। আমরা আপনার চাকর নই।’ তখনই চার জনপ্রতিনিধির উদ্দেশে জ্ঞানেশ কুমার ‘গেট লস্ট, বেরিয়ে যান’ বলেন বলে অভিযোগ। বৈঠক ভণ্ডুল হলেও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদাহরণ, ছবি সহ চারপাতার একটি স্মারকলিপি জ্ঞানেশ কুমারের হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন সাগরিকা। 

    বাইরে রেরিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূল। সতীর্থদের পাশে নিয়ে ডেরেক বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার ভোট ইস্যুতে ন’টি চিঠি দিয়েছেন। একটিরও উত্তর দেননি জ্ঞানেশ কুমার। মোদি-শাহের চিঠি হলে এমন করতে পারতেন? এত স্পর্ধা যে আমাদের বলবে, বেরিয়ে যান! বিজেপির দালাল।’
  • Link to this news (বর্তমান)