জেলার সংখ্যালঘুরাই আসল টার্গেট! বিজেপি-কমিশনের চক্রান্ত: তৃণমূল, প্রমাণ মিলছে সামশেরগঞ্জ, বহরমপুরে বাতিলের তালিকায়
বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
অভিষেক পাল, বহরমপুর: নাম বাতিলের ক্ষেত্রে মূলত টার্গেট ছিলেন সংখ্যালঘুরাই। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং বহরমপুর এই দুই প্রান্তের দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট বাতিলে তালিকা বিশ্নেষণ করলেই তা বেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটার ছিলেন। সামশেরগঞ্জে মুসলিম ভোটার বেশি। সেখানে বিচারাধীন হয়ে যায় ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৬৩ জন। বহরমপুরে সেই সংখ্যাটা মাত্র ১১ হাজার ৮৮ জন। সামশেরগঞ্জে মোট বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ৪৫.৭ শতাংশ ভোটারের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অথচ, বহরমপুরে নিষ্পত্তির হার মাত্র ৪.৭ শতাংশ। কারণ, বহরমপুরে বিচারাধীন ভোটারের তুলনায় সামশেরগঞ্জে বিচারাধীন ভোটার অনেক বেশি।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিতভাবে মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভাকে নিশানা করে বেশি ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ তুলছে তৃণমূলও। বহরমপুর বিধানসভায় মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কম বলে সেখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল মোট ভোটারের ৪.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, সামশেরগঞ্জে মোট ভোটারের ৪৫.৭ শতাংশ ভোটার বিচারাধীন ছিলেন। সেখানে মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিম ভোটার ছিল ৯৮.৮ শতাংশ। বিজেপি এবং কমিশন অশুভ আঁতাত করেই সংখ্যালঘু ভোট বাদ দিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এমনকী জয়ের মার্জিনকে ধরেও কাটাকুটির অঙ্ক কষেছে কমিশন, এমনও অভিযোগ উঠছে।
বহরমপুর বিধানসভায় গত নির্বাচনে বিজেপি ২৬ হাজার ৮৫২ ভোটে জয়ী হয়। এসআইআরের ফলে এখানে এখন ১১ হাজার ৮৮ জন ভোটারের ভোট বিচারাধীন ছিল। সেই অঙ্ক মাথায় রেখে অপেক্ষকৃত কম সংখ্যক ভোটারকে বিচারাধীন তালিকায় নিয়ে আসা হয়েছে। যাতে করে বিজেপির জয়ের মার্জিনকে ছাপিয়ে না যায়। আবার সমশেরগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী গত নির্বাচনে কংগ্রেসের থেকে ২৬ হাজার ৩৭৯ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এখানে ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৬৩ জন ভোটার বিচারাধীন করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫০ শতাংশ ভোটারও যদি চূড়ান্ত বাতিল হয়ে যায়, তা হলেই চ্যালেঞ্জর মুখে পড়ে যাবে তৃণমূলের জয়। সেক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান ভোটারের অনুপাত দেখেই বিচারাধীন করা হয়েছে। এমনই অভিযোগ শাসকদলের।
অন্যদিকে, বহরমপুরে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৪৯৬ জন। মোট ভোটারের ৭২.১ শতাংশ হিন্দু এবং ২৬.৯ শতাংশ মুসলিম। এখানে সামগ্রিক নিষ্পত্তির হার ৪.৭ শতাংশ। নিষ্পত্তিকৃত ভোটারদের মধ্যে ৬১.৬ শতাংশ মুসলিম এবং ৩৭.৩ শতাংশ হিন্দু। একই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় এমন ভিন্ন ফলাফল কেন তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা কান্দির তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, ‘বিজেপির পরামর্শে নির্বাচন কমিশন এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেখে দেখে সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রত্যেকটি বিধানসভা আসনে তারা আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করেছে। বহরমপুরের মত হিন্দু অধ্যুষিত বিধানসভায় কম সংখ্যক মানুষকে বিচারাধীন রাখা হয়েছিল। সুতরাং কারা কি উদ্দেশ্যে এসআইআর করতে চেয়েছে, তা এখন জলের মতো পরিষ্কার।’ পাল্টা বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, কমিশন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ভোটার তালিকার রিভিশন করছে। অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাবে এটা খুবই স্বাভাবিক।’ বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের একটাই দাবি, সমস্ত ভোটারদের নাম তালিকায় তুলে তারপরে ভোট করতে হবে কমিশনকে।’