যুদ্ধের জন্য বিটুমিন সংকট, দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি! কলকাতা পুরসভা এলাকাজুড়ে ব্যাহত রাস্তার কাজ
বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে এবার টান পড়েছে বিটুমিনে। ফলে পাকা রাস্তা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত পিচ মিলছে না। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চাহিদামতো হটমিক্স (রাস্তা তৈরির মূল উপাদান) তৈরি করতে সমস্যায় পড়ছে কলকাতা পুরসভা। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে পিচের বর্ধিত দাম। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে রাস্তা তৈরি বা সংস্কারের কাজ। গোটা প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে পড়েছে বলেই দাবি পুরসভার আধিকারিকদের।
ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের কারণে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। ওই পথ দিয়েই ভারত সহ বিভিন্ন দেশ ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া, যুদ্ধের ফলে বেড়ে গিয়েছে সেই অপরিশোধিত তেলের দামও। এই ক্রুড অয়েল থেকেই তৈরি হয় বিটুমিন বা রাস্তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তরল পিচ। পুরসভা আইওসিএল থেকে বিটুমিন কেনে। দু’-তিনদিন অন্তর বিটুমিন নেওয়া হয় এই তেল সংস্থার থেকে। সেখানে গত কয়েকদিন ধরেই সমস্যা চলছে বলে খবর। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, অপরিশোধিত তেল থেকে প্রথমে বিমানের জ্বালানি, তারপর পেট্রল, ডিজেল, আলকাতরা তৈরি হয়। সবশেষে মেলে এই বিটুমিন বা পিচ। এই ক্রুড অয়েল পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশে আসছে না বলেই সময়মতো বিটুমিনের সরবরাহ নেই। তার উপর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিটুমিনের দামও চড়া হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, স্বাভাবিক নিয়মে এক মেট্রিক টন পিচের দাম ৫২ থেকে ৫৬ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ১ এপ্রিল থেকে সেই দাম বেড়ে প্রতি মেট্রিক টনে ৭৭-৭৮ হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। এক ধাক্কায় অনেকটা দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরসভাও পর্যাপ্ত পরিমাণে বিটুমিন কিনতে গিয়ে থমকাচ্ছে। এক আধিকারিক জানান, এখন প্রচুর জায়গায় রাস্তার কাজ চলছে। গোরাগাছা এবং পামার বাজার মিলিয়ে পুরসভার সড়ক বিভাগের দু’টি প্লান্টে দিনে প্রায় ২০০০ মেট্রিক টন হটমিক্স বা রাস্তা তৈরির উপকরণ উৎপাদন করা হয়। তার জন্য প্রতিদিন ১০০ থেকে ১১০ মেট্রিক টন বিটুমিনের প্রয়োজন। দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনের হিসাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত খরচ মেটাতে হচ্ছে পুরসভাকে। ওই আধিকারিক আরও বলেন, ‘গরম ও তরল এই পিচ কিছুদিন রেখে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো পুরসভার কাছে নেই। তাছাড়া, এই পিচ দীর্ঘদিন ফেলে রাখাও যায় না। দুই থেকে তিন দিনের স্টক একসঙ্গে রাখা যায়। শেষ হয়ে গেলে আবার বরাত দিতে হয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন পর্যাপ্ত পিচ পাওয়া যাচ্ছে না, দামও মেটাতে হচ্ছে অনেক বেশি। সব মিলিয়ে শহরের রাস্তার কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।