• দশমবার বিধায়ক হওয়ার সুযোগ, রেকর্ড গড়ার হাতছানি শোভনদেবের
    বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর তিনি দলের প্রথম বিধায়ক। এবারও তিনি বিধানসভার প্রার্থী। তিনি বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এবার তাঁর সামনে এক রেকর্ডের হাতছানি। ২৬-এর ভোটে কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জয় এলে দশম বারের জন্য বিধায়ক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করবেন তিনি। 

    ১৯৯৮ সাল। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস নাম দিয়ে নতুন দল গঠন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বছরই রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়ে জিতে আসেন শোভনদেববাবু। সেই প্রথম বিধানসভায় প্রবেশ করেন তৃণমূলের প্রতিনিধি। এক সময়ের বক্সার, সুঠাম চেহারার অধিকারী শোভনদেববাবুর বয়স এখন ৮২ বছর। কিন্তু আম জনতার সঙ্গেই তাঁর নিত্য ওঠাবসা। রোদ হোক বা বৃষ্টি, রাস্তায় নামতে দ্বিধা করেন না অশীতিপর এই তৃণমূল নেতা। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক হলেও তিনি অনেক আগে থেকেই কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসের টিকিটে তিনি প্রথমবার নির্বাচিত হন। ২০০১, ২০১১ ও ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল করিম চৌধুরি। তবে এবার তাঁকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা চিন্তা করেই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। এই অবস্থায় রাজ্যের ২৯৪টি আসনের সব দলের প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র শোভনদেববাবুর সামনেই ১০ বারের জন্য বিধায়ক হওয়ার সুযোগ এসেছে। 

    ১৯৯১ সালে বারুইপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন শোভনদেববাবু। ১৯৯৬ সালেও ওই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে তিনি জয়ী হন। ১৯৯৮ সালে উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে শোভনদেববাবু জয়ী হন। এরপর ২০০১, ২০০৬, ২০১১, ২০১৬ সালেও রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন তিনি। ২০২১ সালে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। পরে ওই কেন্দ্রে ইস্তফা দিয়ে খড়দহ কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জিতলে ১০ বারের বিধায়ক হওয়ার নজির গড়বেন তৃণমূলের এই প্রবীণ নেতা। 

    ১০ বার বিধায়ক হয়েছেন, রাজ্যে এমন নজির আছে মাত্র তিনজনের। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের বিধায়ক আবদুল করিম চৌধুরি ১০ বার বিধায়ক হয়েছেন। এছাড়া ১০ বার বিধায়ক হয়েছেন প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও আবদুর রেজ্জাক মোল্লা। সেই তালিকায় শোভনদেববাবুর নাম উঠবে কি না, জানা যাবে ৪মে। শোভনদেববাবু প্রত্যয়ী সুরে বললেন, ‘কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে সেদিন মমতার নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু করি। শপথ নিয়েছি, মমতার পাশে থেকে সরব না মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত। মমতা ও মানুষের যুগলবন্দিতে ১০ বারের বিধায়ক হতে পারব বলেই বিশ্বাস রাখি।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)