ভবানীপুরে সিপিএমের শ্রীজীব কি টপকাতে পারবেন মীনাক্ষীকে?
বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
সোহম কর, কলকাতা: গত বিধানসভা নির্বাচনে ‘হেভিওয়েট’ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ‘দিদি’ আর ‘দাদা’র মাঝে পড়ে সিপিএমের ‘আগুনপাখি’ ভোট পেয়েছিলেন ২.৭৪ শতাংশ। এ বছরও পরিস্থিতি অনেকটা এক! শুধু বিধানসভা কেন্দ্রটি নন্দীগ্রাম থেকে হয়েছে ভবানীপুর! এবারও ‘দিদি’ আর ‘দাদা’ রয়েছেন লড়াইয়ে। সিপিএমও রয়েছে। তবে সিপিএমের হয়ে ‘মীনাক্ষী’র ভূমিকায় আদিগঙ্গার পাড়ে রয়েছেন শ্রীজীব বিশ্বাস। আর মীনাক্ষীকে গঙ্গাপাড়ের উত্তরপাড়ায় প্রার্থী করেছে আলিমুদ্দিন। যদিও শ্রীজীবের ট্র্যাক রেকর্ড সামান্য ভালো। তিনি ২০২১ সালের উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে সাড়ে তিন শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তবে সেবার ‘দাদা’ ছিলেন না লড়াইয়ে। এবার ‘দাদা-দিদি’র লড়াইয়ের মাঝে শ্রীজীব কি পারবেন গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে মীনাক্ষী যত ভোট পেয়েছিলেন, তাকে ছাপিয়ে যেতে?
পেশায় আইনজীবী শ্রীজীবের কাছে এই প্রশ্ন রাখা হলে, তিনি সটান বলে দিচ্ছেন, ‘আমরাই জিতব’। কিন্তু কীভাবে? তিনি আবারও প্রত্যয়ী কণ্ঠে জানিয়ে দেন, ‘মানুষ জেতাবে।’ আরও বলেন, ‘২০২১ সালের পরিস্থিতি আলাদা ছিল। এটা ২০২৬ সাল। মীনাক্ষী বা আমার বিষয় নয়, মানুষ চাইছে বামেদের।’ ভবানীপুর এলাকায় সিপিএমের প্রচারে কর্মসংস্থানের সঙ্গে উঠে আসছে স্থানীয় ইস্যুও। সঙ্গে থাকছে বিজেপি বিরোধিতা। নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকে সিপিএমের এই তরুণ প্রার্থী প্রায় প্রত্যেকদিন প্রচারে বেরিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে শ্রীজীবের ‘খোলা চিঠি’। লিফলেটে লেখা, ‘আপনার পাড়াকে বৃদ্ধাশ্রম হওয়া থেকে বাঁচান।’ সেই সঙ্গে বলা হচ্ছে, ‘আমাদের পাড়ার বন্ধুদের অনেকেই আজ পাড়ায় নেই। রোজ আমাদের পাড়া থেকে, গোটা বাংলা থেকে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছে। কাজের খোঁজে। আমাদের পরিণতি কি একই হবে? আপনি কি তাই চান?’ ভবানীপুরের নেতা-কর্মীরাও জানেন, কার্যত এক অসম্ভবকে দাবি করতে পথে নেমেছেন তাঁরা। তবে তার জন্য উৎসাহে ভাটা নেই। ভবানীপুরের জন্য সুরেলা থিম সংও আনতে চলেছে লাল ব্রিগেড। শ্রীজীব বলছেন, ‘ইগোর লড়াইকে ইস্যুর লড়াইয়ে বদলে দেওয়ার জন্য নেমেছি আমরা। মানুষ যদি ওলট-পালট চান, তা হবেই।’
তবে সূত্রের খবর, এই লড়াইয়ে বামপন্থীদের একটি অন্য হিসাবও রয়েছে। তা হল, হারিয়ে যাওয়া ভোট নিজেদের ঘরে ফেরানো। কী সেই অঙ্ক? ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে সিপিএমের নন্দিনী মুখোপাধ্যায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে এই আসন থেকে জোট প্রার্থী হয়েছিলেন কংগ্রেসের দীপা দাসমুন্সি। তিনি পেয়েছিলেন ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট। ২০২১ সালে কংগ্রেসের সেই ভোট ৪ শতাংশে পৌঁছায়। সেই বছরই উপনির্বাচনে শ্রীজীব ওই ভোট শতাংশ কমবেশি ধরে রাখতে পেরেছিলেন। কিন্তু সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, ওই ৩-৪ শতাংশ দিয়ে তো সংগঠন জিইয়ে রাখাটাই কঠিন। তাই স্থানীয় বাম নেতাদের এখন মূল লক্ষ্য, ২০১১ সালের সেই ২০ শতাংশ ভোট ফিরিয়ে আনা।