নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্যে একের পর আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। কার্যত নিজেদের পছন্দের আধিকারিক বসিয়ে ভোট পরিচালনা করছেন জ্ঞানেশ কুমাররা। আর এবার নিজেদের নিযুক্ত করা পর্যবেক্ষককেই সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন! বুধবার রাজ্যে নিযুক্ত সমস্ত পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। নিজের কেন্দ্র সম্পর্কে ন্যূনতম তথ্য না-থাকায় কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার পর্যবেক্ষককে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন। বুধবার তাঁদের সকলের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্ঞানেশ। সেই বৈঠকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক অনুরাগ যাদব। সূত্রের খবর, তাঁর দায়িত্বে কটি বুথ আছে, সে সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল নন ওই পর্যবেক্ষক। কমিশনের ফুল বেঞ্চকে বিষয়টি নিয়ে কোনো জবাবই দিতে পারেনি তিনি। অথচ বিষয়টি অতি সাধারণ। আর এই সাধারণ বিষয়ে অবগত না-হওয়ায় তাঁর উপর রুষ্ট হন জ্ঞানেশ। অনুরাগের ভূমিকা এবং দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আর তারপরই সঙ্গে সঙ্গে ওই পর্যবেক্ষককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পর্যবেক্ষক নিয়োগের সময় কমিশন জানিয়েছিল, যে আধিকারিককে যে কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ১৮ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে। সেই নির্দেশমতো পর্যবেক্ষকেরা নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। কমিশন জানিয়েছিল, নিজেদের এলাকায় পৌঁছেই যোগাযোগের ঠিকানা প্রকাশ্যে আনবেন তাঁরা, যাতে যে-কেউ যেকোনো প্রয়োজনে পর্যবেক্ষকদের সাহায্য পেতে পারেন। সেইমতো পর্যবেক্ষকেরা কাজও শুরু করেছেন। কমিশনের নির্দেশ, প্রার্থী, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাকের জন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষকদের ফাঁকা রাখতে বলেছিল কমিশন। নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং পক্ষপাতহীন করতে নিজ নিজ কেন্দ্রের পরিস্থিতির উপর নজরদারির দায়িত্ব রয়েছে পর্যবেক্ষকদের।
কমিশন সূত্রে খবর, পর্যবেক্ষক হিসাবে বেশ কিছুদিন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অনুরাগ। কিন্তু ওই কেন্দ্রে কতগুলি বুথ আছে, তা সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই তাঁর। এদিন জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে বলেন, ‘বুথের সংখ্যা জানেন না, নির্বাচন কীভাবে করবেন?’ অনুরাগ তখন বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে অবগত নই।’ পালটা জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘এতদিন তাহলে কী করলেন?’ চুপ না থেকে ওই পর্যবেক্ষক বলেন, ‘আমায় এভাবে বলতে পারেন না। আমি সাতবছর নির্বাচন করেছি। যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে আমার।’ একথা শুনেই জ্ঞানেশ সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘আপনাকে আর এখানে কাজ করতে হবে না। অব্যাহতি নিয়ে নিন।’