• শুনানির তিন মাস পর সাঁকরাইলে নোটিস বিলি, উত্তর হাওড়ায় গণহারে ‘ডিলিটেড’
    বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাঁকরাইলের মানিকপুরে প্রায় ১১০০ ভোটারকে শুনানি পর্ব পেরিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর নোটিস বিলির অভিযোগ উঠেছে বিএলও’র বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর হাওড়ার একটি বুথে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করা ১৪৯ জনের মধ্যে ১২৮ জনের নামই ‘ডিলিটেড’ হয়ে যাওয়ায় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটাধিকার নিয়ে আশঙ্কার আবহ তৈরি হয়েছে।

    সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর পঞ্চায়েতের ২৩৫ থেকে ২৪০ নম্বর বুথে প্রায় ১১০০ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় না থাকায় ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হয়েছে। অভিযোগ, বাদ পড়া ভোটারদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছিল। এরই মধ্যে বুধবার আচমকা বিএলওরা সেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নোটিস বিলি করেন। নোটিসে উল্লেখ ছিল, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকাল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে সাঁকরাইলের বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির থাকতে হবে। অথচ সেই তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে অনেক আগেই, ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা। নোটিস হাতে পেয়েই মানিকপুর পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা মানিকপুর ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাফুরুল্লা মণ্ডল বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাঁকরাইলের বিডিও কামারুল মনির। যদিও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, নোটিসের ভুল ঢাকতে ১৫ জানুয়ারির তারিখ কেটে ৮ এপ্রিল ২০২৬ লেখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সাহানা শেখ বলেন, সময়মতো নোটিস পেলে তাঁরা শুনানিতে অংশ নিতে পারতেন। প্রয়োজনীয় নথিও তাঁদের কাছে ছিল। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অমৃত বোস বলেন, ‘কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানুষের হয়রানি চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে তৃণমূল।’

    অন্যদিকে, উত্তর হাওড়ার ৫১ নম্বর বুথে এসআইআরের তালিকায় বিচারাধীন ১৪৯ জনের মধ্যে ১২৮ জনের নাম ‘ডিলিটেড’ হয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এলাকায় বসবাস করছি। কমিশনের নির্দেশ মেনে সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ মার্চ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। এরপর ট্রাইবুনালে আবেদন করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। দিব্যকান্তি ভট্টাচার্য নামের এক বাসিন্দা জানান, ট্রাইবুনালে আবেদনের চারদিন পর তাঁর কাছে কনফার্মেশন আইডি না আসায় ইআরও অফিসে যোগাযোগ করেন তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ডেটা এন্ট্রির ভুলে তাঁর নম্বর বদলে যাওয়ায় কনফার্মেশন আইডি যায়নি। কীভাবে এই বিষয়টি সংশোধিত হবে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়নি। ফলে উত্তর হাওড়ার ওই এলাকায় ‘ডিলিটেড’ বাসিন্দাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)