ভোটের আগে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার কলকাতায়, ধৃত বিহারের বাসিন্দা
বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের আগে স্ট্রান্ড রোড থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র। বিহার থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের হাতে বুধবার গ্রেপ্তার হল নালন্দার বাসিন্দা মহম্মদ ইউসুফ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটি দেশি বন্দুক, দুটি সেভেন এমএম পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ কার্তুজ। সেগুলি দুষ্কৃতী দলের কাছে যেত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ভোটের আগে কলকাতায় আগ্নেয়াস্ত্র আসছে কি না, তা নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে এসটিএফ। বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবসায়ীদের গতিবিধি নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন অফিসাররা। বিহারের বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবসায়ীর ফোনে আড়ি পেতে জানার চেষ্টা চলছে রাজ্য বা কলকাতার কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না আর্মসের জন্য। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, ভোটে গোলমাল পাকাতে একদল দুষ্কৃতী অস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টা করছে। বুধবার সকালে অফিসারদের কাছে খবর আসে, বিহারের এক যুবক অস্ত্র নিয়ে কলকাতায় এসেছে। খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়, সে স্ট্রান্ড রোডে ক্যানিং স্ট্রিটের কাছে একটি শৌচালয়ে ঢুকেছে। সেইমতো এসটিএফের টিম সেখানে পৌঁছয়। তার কাছে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উদ্ধার হয় তিনটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি সেভেন এমএম পিস্তল। এছাড়া পাওয়া গিয়েছে, ৪০টি কার্তুজ। এই আর্মস ও কার্তুজ সে কোথা থেকে পেল তার কাগজ দেখাতে পারেনি। বাজেয়াপ্ত করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিহারের এক অস্ত্র ব্যবসায়ী তাকে এই আর্মসগুসি ডেলিভারি করার জন্য পাঠিয়েছিল। আগ্নেয়াস্ত্র পিছু দু থেকে তিন হাজার টাকা কমিশন ছিল। বাসে করে সে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিল কলকাতায়। ধর্মতলায় নামার পর সে এক ব্যক্তিকে ফোন করে। তার কাছে এই আগ্নেয়াস্ত্র ডেলিভারির কথা ছিল। ওই ব্যক্তির কথামতো সে স্ট্র্যান্ড রোডে পৌঁছয়। সেখানে অপেক্ষা করছিল। তার আগে ধরা পড়ে যায়। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলে বিহারের একাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ীর নাম পেয়েছেন তদন্তকারীরা। যাদের হয়ে সে কাজ করত। তদন্তকারীরা জেনেছেন, আগেও সে আর্মস নিয়ে কলকাতায় এসে ডেলিভারি করে গিয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ভাটপাড়াতেও। পুলিশ ২৮ নম্বর রেলগেটের কাছে বিবেক সাউ ওরফে ডোমা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।