• এসআইআরে বাদ যাওয়া নামের সংখ্যা গত ২ ভোটে জয়ের মার্জিনকে ছাপিয়ে যায়নি, আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
    বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • সৌম্যজিৎ সাহা, বাসন্তী: পালাবদলের পর থেকে টানা কোনো বিধায়ক পায়নি বাসন্তী। তিনবার তিনজন পৃথক জনপ্রতিনিধি পেয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। চতুর্থবার যিনিই জিতুন, ফের নতুন এক বিধায়ককে পেতে চলেছেন তাঁরা। তবে জেলার মধ্যে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হয়ে আছে বাসন্তী বিধানসভা। কারণ এখানে বাম ও আইএসএফের জোট হয়নি। ফলে এবার শাসকদলের লড়াই চার বিরোধী দলের সঙ্গে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কথা অনুযায়ী, যত বেশি ভোট ভাগাভাগি হবে, তত বেশি লাভ শাসকের। এখানে লড়াইটা ঠিক কীরকম হবে, সেটা জানার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তাছাড়া আরও একটা বিষয় হল, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার পরেও, সেটা বিগত নির্বাচনে তৃণমূলের লিড-এর থেকে কম। এই বিষয়টিও শাসকদলকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে বলে দাবি এলাকার বাসিন্দা থেকে রাজনৈতিক মহলের। কিন্তু বিরোধীরা দাবি করছেন, কোনো ফ্যাক্টরই এবার তৃণমূলকে সাহায্য করবে না। ভোট ভাগাভাগিও হবে না।

    পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে বর্তমান বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল জিতেছিলেন ৫১ হাজার ভোটে। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা থেকে তৃণমূলের ৭৮ হাজারের মতো লিড ছিল। আর এসআইআরে নাম বাদ গিয়েছে ২৫-২৬ হাজারের মতো ভোটারের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটাই তৃণমূলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। কারণ অন্য অনেক কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ‘ডিলিট’ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, বাদের সংখ্যাটা আগের নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ফলে সেসব আসনে ‘ক্লোজ ফাইট’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাসন্তীর ক্ষেত্রে তৃণমূল পুরনো ‘লিড’ ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন চ্যালেঞ্জ। কারণ বিরোধীরা রীতিমতো এলাকার খামতি, মানুষের অভাব অভিযোগ নিয়ে প্রচারে নেমে পড়েছে। বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে কোথায় মানুষের কষ্ট, বঞ্চনা ইত্যাদি জানছেন। তিনি বলেন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষার বেহাল অবস্থা বাসন্তীর গ্রামে গ্রামে। এর পরিবর্তন হবেই। একই মত পোষণ করেছেন আরএসপি প্রার্থী সমর বিশ্বাসও। তিনিও দাবি করেছেন, অনেক কিছুর উন্নতি দরকার, যা গত ১৫ বছরে হয়নি।

    তবে এটাও ঠিক, এই বিধানসভায় চার ভাগ হবে বিরোধী ভোট। বিজেপি এবং আরএসপির পাশাপাশি লড়াইয়ে রয়েছে কংগ্রেস আর আইএসএফ। শাসকদলের দাবি, এতে তাদেরই সুবিধা হবে। কিন্তু আরএসপি প্রার্থীর কথায়, মানুষ কাকে ভোট দেবে, সেটা ঠিক করে ফেলেছে। তাই ভোট ভাগ হওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। তৃণমূল প্রার্থী নীলিমা মিস্ত্রি বিশাল বলেন, আমাদের সরকার যা উন্নয়ন করেছে, তা আগে কখনও হয়নি। বিরোধীরা অপপ্রচার করছে। জিততে পারবে না বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাতে কোনো লাভ হবে না। তবে, এবার বাসন্তীতে স্থানীয় প্রার্থী পেয়ে এলাকাবাসী খুশি। বহিরাগত বিতর্ক এড়াতে তৃণমূল ‘বাড়ির বউ’ তথা জেলা সভাধিপতিকে দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে, ভূমিপুত্র হিসাবে পরিচিত বিকাশ সর্দারের উপর বাজি বিজেপির। স্থানীয় মানুষজন বলছেন, যেই জিতুক তাঁকে এলাকাতেই পাওয়া যাবে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)