• মেয়ের দেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ ওঠায় ক্ষিপ্ত রত্নাদেবী, ভোট প্রচারে বেরিয়ে বিক্ষোভের মুখে পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী
    বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটিতে ভোট প্রচারে বেরিয়ে এবার এলাকাবাসীর রোষানলের মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। এক সময়ে তাঁর মেয়ে অভয়ার হয়ে বিচার চাইতে রাস্তায় নামা মহিলারা প্রশ্ন তুললেন, রত্নাদেবীর বর্তমান ভূমিকা নিয়ে। শুনতে হয়েছে, কেন তিনি মেয়ের নাম নিয়ে ভোট চাইছেন! শুধু তাই নয়, মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগও তোলা হলো তাঁর বিরুদ্ধে। এনিয়ে পানিহাটি জুড়ে তীব্র শোরগোল পড়েছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল ষড়যন্ত্র করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

    বুধবার সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পানিহাটি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়েছিলেন রত্না দেবনাথ। তিনি ডিএন চ্যাটার্জি রোড, রসিকলাল শ্রীমানি রোড হয়ে হরিমোহন চ্যাটার্জি রোডে ঢোকেন। ওই এলাকায় প্রচার করে ইলিয়াস রোডের দিকে ঢুকতেই বিপত্তি ঘটে। এক মহিলা ছাদ থেকে তাঁর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। বলেন, কাকিমা মেয়ের নাম নিয়ে রাজনীতি করছেন কেন? রাজনীতির ময়দানে এসেছেন নিজের নাম নিয়ে রাজনীতি করুন। অভয়া অভয়া কেন করছেন? কেন মেয়েকে রাস্তায় নামালেন! ছিঃ ছিঃ! আরও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আপনার চোখের জল লোক দেখানো নাটক! আচমকা এই কথায় হতচকিত হয়ে পড়েন রত্নাদেবী। বিজেপি কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে প্রার্থীকে নিয়ে এগিয়ে যান। মহিলাও পাল্টা জয়বাংলা স্লোগান দেন। 

    এই পর্বেই দুই মহিলা আচমকা প্রার্থীর দিকে এগিয়ে আসেন। প্রার্থীর দিকে ফুলও ছোড়েন। তাঁরাও চিৎকার করে বলতে থাকন, মৃত মেয়েকে নিয়ে রাজনীতি করছেন। লজ্জা করছে না! এরপর ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়া হয়। বিজেপি কর্মীরা প্রার্থীকে নিয়ে এগিয়ে যান। এই বিষয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের লক্ষ্য করে বারবার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিল। আমাকে মারার চেষ্টা হয়েছে। মাথায় আঘাত লেগেছে। দলের কর্মীরাও আক্রান্ত। তৃণমূল ভয়ে আছে বলেই এই আক্রমণ করেছে। ওরা আমার মেয়েকে মেরে ক্ষান্ত হয়নি। ৯ অগাস্ট আমাকে আক্রমণ করেছিল। তাঁর অভিযোগ, এখন আমাকে সরিয়ে দিতে চাইছে। যাতে আর কেউ বিচার চাইতে না পারে। গোটা বিষয়টি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হবে। 

    তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের পাল্টা দাবি, ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির ‘বহিরাগত’ কর্মীরাই। তিনি বলেন, আমি কাকিমার বিষয়ে কিছু বলব না। তবে যাঁরা তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা কেউই এলাকার নন। বিজেপি কর্মীরা এলাকায় গিয়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেব’ বলে চিৎকার করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তার প্রতিবাদ করেন। সেই সময় বিজেপির পুরুষ কর্মীরাই মহিলাদের সঙ্গে অভব্যতা করেন। ভিডিওতেই সব স্পষ্ট।

    বিজেপিতে নাম লিখিয়ে প্রার্থী হওয়ায়, প্রতিনিয়ত মানুষের সমালোচনার বিঁধতে হচ্ছে রত্নাদেবীকে। পদ্মপার্টিতে না লিখিয়েই এক সময় পাশে থাকা সিপিএম নেতৃত্বকে তিনি আক্রমন করেছেন। খুনের হুমকি দিয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যজুড়ে। এই আবহে রত্নাদেবীর জনরোষের মুখে পড়ার বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
  • Link to this news (বর্তমান)