• অতীত স্মৃতিচারণ আর উন্নয়ন-খতিয়ানের যুগলবন্দিতেই ভিড়ের মন জিতলেন মমতা
    বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • অভিজিৎ চৌধুরী, শ্রীরামপুর: উন্নয়নের খতিয়ান ছিলই। এবার তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে হুগলির ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকার কথা শুনিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্মৃতিচারণায় উঠে এল বাংলা কাঁপানো ভিখারি পাশোয়ান কাণ্ড। কখনও উঠে এল গুপ্তিপাড়ায় পুলিশের গুলিতে নিরীহ যুবক হলধর মণ্ডলের মৃত্যুকে ঘিরে আন্দোলন, কোর্টের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ। হুগলিকে কেন্দ্র করে যেমন তাঁর লড়াকু জীবনের কথা বলেছেন, তেমনই খতিয়ান দিয়েছেন উন্নয়নের। শ্রীরামপুরের মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের উন্নয়ন থেকে ব্যান্ডেল চার্চ, জাঙ্গিপাড়ার ফুরফুরা শরিফ থেকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, সব প্রসঙ্গই ঘুরে ফিরে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। বাংলা ও বাঙালির সম্মান বাঁচানোর লড়াইয়ে হুগলির সঙ্গে তাঁর আবেগ জড়িয়ে থাকার প্রসঙ্গ এদিন বিপুল ভিড়কে স্মৃতিকাতর করেছে।

    এদিন শ্রীরামপুরের স্টেডিয়াম মাঠ ছিল ভিড়ে ঠাসা। সেখানে মধ্যদুপুরে এসে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য শুরুই করেন হুগলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের দীর্ঘ খতিয়ান দিয়ে। তিনি বলেন, হুগলির সঙ্গে আমার যোগাযোগ পুরানো। প্রয়াত নেতা আকবর আলি খোন্দকারকে নিয়ে একাধিক আন্দোলন করেছি। গুপ্তিপাড়ার হলধর মণ্ডলের মৃতদেহ পর্যন্ত পরিবারকে দিতে চায়নি সিপিএমের প্রশাসন। আমরা আন্দোলন করে সেই অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছি। ভিখারি পাশোয়ান নিয়ে আন্দোলন করেছি। এই হুগলিতেই আমরা একের পর এক উন্নয়নের কাজ করেছি। জগন্নাথ মন্দির, ব্যান্ডেল চার্চ, ফুরফুরা শরিফ, তারকেশ্বর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড— সমস্ত কাজ আমরা করেছি। হুগলির মাটি পুণ্যভূমি। এখানেই রেনেসাঁ হয়েছে। এখানেই রামকৃষ্ণদেব, সারদা মা, বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পদধূলি পড়েছে। আজ ধর্মের নামে বিভেদ করা হচ্ছে। আজ বাঙালিকে, বাংলাভাষাকে অসম্মান করা হচ্ছে। তাই হুগলির মানুষকে বাংলা ও বাঙালির মাথা উঁচু করে রাখার লড়াইয়ে পাশে থাকার অনুরোধ করছি। 

    মাঠে উপস্থিত অনেকেই অতীতের সেসব ভয়াবহ দিনের কথা মনে করে আবেগাক্রান্ত হয়েছেন। অনেকেই পাশের জনকে শুনিয়েছেন সেইসব গল্প। শ্রীরামপুরের বাসিন্দা প্রভাস দে এদিন মাঠে ছিলেন। তাঁর স্মৃতিতে এখনও সতেজ সেসব দিনের কথা। বলছিলেন, সেদিনও লড়াই ছিল, আজও লড়াই আছে। আজও মমতা লড়ে যাচ্ছেন। আর যাঁরা দেখেছেন উন্নয়নের কাজ, তাঁরা সহমত হয়ে মাথা নেড়েছেন। শ্রীরামপুরের শেফালি বিবি বলছিলেন, দিদি তো ঠিকই বলেছেন। কাজ তো হয়েছে। মিথ্যা তো কিছু নয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কিছু সময় আগেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেছেন, আমরা মিথ্যার ফানুস ফোলাই না। যা বলি, তা করে দেখাই। 

    এদিন বারবার বলেছেন, সভা শুরু করতে দেরি হয়েছে। তারপরেও দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন। আর তাতে ছিল অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া আর উন্নয়নের খতিয়ান। ওই যুগলবন্দিতেই এদিন ভরা মাঠকে মাতোয়ারা করেছেন বাংলার অগ্নিকন্যা। 
  • Link to this news (বর্তমান)