নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার বেলা ১১টার সময় নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত আধিকারিকরা মাইক্রোফোনে ঘোষণা করলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, ‘আমি ১১টা ০২ মিনিটে জমা দেব।’ সেই সময়টাই ‘মাহেন্দ্রক্ষণ’ হিসাবে রচিত হল বাংলার পরিষদীয় রাজনীতিতে। সংখ্যাতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, ১১টা ০২ মিনিট বাস্তাবিকভাবেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ১+১+০+২=৪। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা। জোড়াফুল শিবিরের বক্তব্য, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
এদিন ১০টা ৪৪ মিনিটে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা হন মমতা। জনস্রোতে ভেসে ১০টা ৫৪ মিনিটে পৌঁছন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কেন্দ্রে।১১টা ০২ মিনিট থেকে মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করে সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে আসেন তৃণমূল প্রার্থী। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন মমতা। ভবানীপুর কেন্দ্রের সাধারণ পর্যবক্ষেককে দেখে মমতা বলেন, আপনি কোথা থেকে এসেছেন? পর্যবেক্ষক উত্তর দেন, ত্রিপুরা থেকে। তৎক্ষনাৎ মমতা জিজ্ঞাসা করেন, ত্রিপুরার কোথায় থাকেন? আমি ওখানকার অনেক জায়গাই চিনি। সাধারণ পর্যবেক্ষকের কথায়, আমি বনমালিপুর বিধানসভা এলাকায় থাকি। আগরতলায় প্রশাসনিক দপ্তরে কর্মরত।
এরপর ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গা এবং সেখানকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তির কথা উঠে আসে মমতার আলাপচারিতায়। কৈলাশনগরের কথা উঠতেই সাধারণ পর্যবেক্ষণ উত্তর দেন, আমি ওই এলাকায় জেলাশাসক পদে ছিলাম। তবে ত্রিপুরার এখন রাজ্যপাল কে? সেই ব্যক্তির নাম মনে পড়ছিল না সাধারণ পর্যবেক্ষকের। মমতা উত্তর দেন, নো প্রবলেম! কমিশনের আধিকারিকদের কাছে মমতা অনুরোধ করেছেন, ছবি নিয়ে যেন কোনো সমস্যা না হয়। ইভিএমে কারও ছবি ছোট বা বড় যেন না থাকে। পাশাপাশি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সব কাগজপত্র ঠিক আছে কি না, সবকিছু ভালোভাবে দেখে নেওয়ার অনুরোধ করেন মমতা। কমিশনের কর্তব্যরত আধিকারিকরা জানান, সব কিছু ঠিক আছে। তারপরই কমিশনের অফিসারদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে জানিয়ে সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা। রাজনীতির কারবারিদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সময় অনুযায়ী চলতে বিশ্বাস করেন। সভা, অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়েই প্রবেশ করেন। এদিন মনোননয়নপত্র জমা পর্বেও সময় ধরে এগিয়েছেন তিনি।