নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৬ মার্চ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে বামফ্রন্ট সভাপতি বিমান বসু প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিলেন। চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় রেভল্যুশনারি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (আরসিপিআই) দলের সঞ্জয় বসুর নাম। এরপর প্রচার শুরু করেন সঞ্জয়বাবু। কিন্তু প্রথম থেকেই প্রতীক নিয়ে টালবাহানা চলছিল। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছিল, কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্ন নিয়ে লড়বেন আরসিপিআই প্রার্থী। মঙ্গলবার সঞ্জয় বসু মনোনয়ন জমা করেন। মনোনয়ন জমার পর দেখা গেল, জল্পনা সত্যি। কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্ন নিয়েই ভোটে লড়াই করছেন আরসিপিআই’য়ের প্রার্থী। আরসিপিআই সাধারণত ফ্রি সিম্বল নিয়ে লড়াই করে থাকে। দলের প্রার্থী সিপিএম হয়ে গিয়েছে দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ আরসিপিআই’য়ের বর্ষীয়ান নেতৃত্ব। যদিও এর আগে কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকে আরসিপিআই লড়েছে।
তবে প্রার্থীর বক্তব্য, ‘বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্নেই লড়াই করছি।’ এতকাল শরিকদলগুলির সঙ্গে আসন নিয়ে জট পাকত সিপিএমের। কিন্তু নাম ঘোষণার পর প্রার্থী এক রইলেন কিন্তু পার্টির নাম গেল বদলে! এরকম ঘটনা আগে হয়েছে বলে কেউ মনে করতে পারছেন না। সিপিএমের এক নেতার কথায়, ‘এটাই বোঝাপড়া।’ যদিও এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ আরসিপিআই’য়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিহির বাইন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ভোটের সময় আলাদা করে বিষয়টি নিয়ে কিছু বলছি না। কিন্তু ভোটের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই প্রতীক জটিলতায় সাধারণ ভোটার বিভ্রান্ত হবেন না? পেশায় আইনজীবী সঞ্জয় বসু বলেন, ‘বিভ্রান্ত কেন হবেন? কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্নে লড়াই করছি। আমি ফ্রি সিম্বলে লড়ব না। এখানে কোনো সমস্যা নেই। বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই সব হয়েছে।’ প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে শান্তিপুর থেকে সঞ্জয় বসু আরসিপিআই’য়ের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন কাস্তে তারা চিহ্ন নিয়ে লড়েননি।
আরসিপিআই ফ্রি সিম্বল নিয়েই ভোটে লড়ে। মিহির বাইন বলেন, ‘আমরা সাতের দশকে মশাল চিহ্ন নিয়ে লড়েছি। তারপর সাইকেল চিহ্ন ছিল। কিন্তু সমাজবাদী পার্টির নির্বাচনী প্রতীক হয় সাইকেল।’ আরসিপিআই’য়ের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৩৪ সালে। সিপিআই থেকে বেরিয়ে সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর কমিউনিস্ট লিগ তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেই দলের নাম হয় আরসিপিআই। ১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চারটি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল আরসিপিআই। শান্তিপুর, হাসন ও হাওড়া মধ্য এই তিন কেন্দ্রে তারা জয়লাভ করেছিল। সুধীন্দ্রনাথ কুমার খাদ্যমন্ত্রী হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেষবারের মতো দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে জিততে পেরেছিল তারা।