সন্ধ্যায় স্বস্তির ঝড়বৃষ্টি শহরে, কাল থেকে বাড়তে পারে তাপমাত্রা
বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকে চকচকে রোদ। বেলা একটু বাড়লেই রোদে গা পুড়ে যাওয়ার জোগাড়। রাস্তাঘাটে বেরলে গরমের অস্বস্তি। আর বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই স্বস্তির ঝড়বৃষ্টি। গত কয়েকদিনের এমন আবহাওয়া অপরিবর্তিত রইল বুধবারও। অব্যাহত রইল ফি-সন্ধ্যায় ঝড়বৃষ্টির দাপট। এদিন বিকালে আবহাওয়া দপ্তরের তরফে কলকাতা, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশের জন্য ঝড়বৃষ্টির ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। শহরের একাধিক জায়গায় গাছের ডাল ভেঙে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি, যা চলে রাত পর্যন্ত। আজ, বৃহস্পতিবার বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। কাল, শুক্রবার থেকে কলকাতায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে দুপুরের পর থেকে শক্তিশালী বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়। তার ফলে শুরু হয় ঝড়বৃষ্টির দাপট। এদিন সন্ধ্যায় নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি ও হাওড়া জেলার কিছু অংশে তীব্র ঝড়বৃষ্টির ‘লাল সতর্কতা’ জারি করে আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কিছু অংশের জন্য জারি করা হয় ‘কমলা সতর্কতা’। তবে আবহাওয়া দপ্তর বৃহস্পতিবারের জন্য রাজ্যের কোথাও বেশি মাত্রায় ঝড়বৃষ্টির ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেনি। তবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় থাকছে ‘হলুদ সতর্কতা’। ঘন্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সঙ্গে বৃষ্টি। শুক্রবারের জন্য আপাতত কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি।
কেন এভাবে টানা ঝড়বৃষ্টির দাপট? আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, অনুকূল পরিস্থিতি থাকার জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে গত কয়েকদিন ধরেই। ফলে রাজ্যজুড়ে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হচ্ছে। সেই সঙ্গে ছত্তিশগড়ের উপর রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। উত্তর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখাটি বিহার ও উত্তরবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর আছে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখাও। এত কারণের সম্মিলিত ফল ঝড়বৃষ্টি।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হয়েছে অনেক জায়গায়। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে হাওড়ার আমতায় সবথেকে বেশি ৩৫ মিমি ও উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ারের সঙ্কোশে ৮০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দমদমে ২০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এই এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮১ কিমি।