নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ২৯ এপ্রিল ভোট। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে তৎপর বিধাননগর কমিশনারেট। সেই সঙ্গে হিংসা, ভীতি প্রদর্শন, ছাপ্পা, বুথ দখল রুখতে নির্বাচন কমিশন ৬টি গাইডলাইন কার্যকর করার জন্য সব থানাকে নির্দেশ দিয়েছে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটারদের সুরক্ষার বিষয় সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যৌথ পরিদর্শনে নামে পুলিশ ও প্রশাসন। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা জেলার নির্বাচনি আধিকারিক শিল্পা গৌরীসারিয়া এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার (সিপি) মুরলীধর বুধবার বাগুইআটি, সল্টলেকের মহিষবাথান সহ একাধিক এলাকা পরিদর্শন করেন। যেখানে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ সহ পুরো কেন্দ্র ঘুরে দেখেন তাঁরা। বাগুইআটিতে সিপি, জেলাশাসক ছাড়াও ডিসি, এসিপি, বাগুইআটি থানার আইসি সহ রাজারহাট-গোপালপুরের রিটার্নিং অফিসারও ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট ঘোষণার পরই বিধাননগর কমিশনারেটে পুলিশ-প্রশাসন, সিএপিএফ কর্তাদের সঙ্গে অবজারভারদের একটি বৈঠক হয়েছিল। তাতে নির্বাচনি প্রক্রিয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলা হয়। এরিয়া ডমিনেশন, ভালনারেবিলিটি ম্যাপিং, সিএপিএফ এবং স্থানীয় পুলিশ ইউনিটগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তারপর পুলিশ কমিশনার নিজে প্রতিটি থানা পরিদর্শন করেন এবং নির্বাচন কমিশনের ৬টি গাইডলাইন কার্যকর করার ব্যাপারে সকলকে নির্দেশ দেন। এরিয়া ডমিনেশনের কাজে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের যৌথ টহলও চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে যে অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয়েছিল, সেইসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাগুইআটি থানার আইসি এবং ডিসি এয়ারপোর্ট। তাঁরা নিজেদের মোবাইল নম্বরও দিয়েছেন স্থানীয়দের। যাতে কোনো প্রয়োজন পড়লে ভোটাররা সরাসরি মোবাইলে ফোন করতে পারেন। এর ফলে, পুলিশের প্রতি ভোটারদের আস্থাও তৈরি হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষ্যে কমিশনের প্রতিটি গাইডলাইন মেনে চলা হচ্ছে। প্রতিটি থানা এলাকায় নিয়মিত নাকা চেকিংও চলছে। সেই চেকিংয়ে নিউটাউনে ২৫ লক্ষ টাকা নগদ ও বাগুইআটিতে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল।