দমদমে উড়ালপুলের অপেক্ষায় তৃণমূল, পরিকল্পনা পুরনো বলে কটাক্ষ বিরোধীদের
বর্তমান | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: মানুষ বলে, গত দেড় দশকে অনেক বদলে গিয়েছে দমদম। রাস্তা ঝাঁ চকচকে হয়েছে। শপিং মল, নতুন মেট্রো স্টেশনের ফলে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। বহুতলগুলিতে ঠাঁই নাই অবস্থা। লাফিয়ে বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা। ফলে মাঝে মধ্যেই যানজটও হচ্ছে। সে সমস্যা সমাধানে দমদমে নতুন দু’টি উড়ালপুল তৈরির পরিকল্পনা আছে বলে জানালেন দমদমের তৃণমূল প্রার্থী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। নতুন সরকার তৈরি হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে দমদমে আরও দু’টি উড়ালপুল তৈরি হবে।’ তবে বিরোধীরা একে ভোটের চমক বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।
দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে দমদম পুরসভার পাশাপাশি দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। দমদম স্টেশন, দমদম মেট্রো স্টেশনের পাশাপাশি দমদম ক্যান্টনমেন্ট রেল ও মেট্রো স্টেশন রয়েছে। গত দেড় দশকে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জেরে কলকাতা শহর লাগোয়া দমদমে মানুষের বসতি বেড়েছে কয়েক গুণ। একের পর এক বহুতল গজিয়ে উঠেছে। ফলে দমদম রোড, যশোর রোড সহ বিভিন্ন রাস্তায় মানুষের যাতায়াত ও গাড়ির সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। দমদমে যানজট, রাস্তায় বাজার বসার জেরে যাতায়াতে সমস্যা আছে. তবে তা বাম জমানা থেকেই হচ্ছে। তাই ২০০৭ সালে বাম সরকার নাগেরবাজারে উড়ালপুলের পরিকল্পনা করেছিল। ২০০৯ সালে তার কাজ শুরু হলেও তা নির্ধারিত সময় অর্ধেকও সম্পূর্ণ হয়নি। ২০১১ সালে পালাবদলের পর উড়ালপুল তৈরির কাজে গতি আসে। ২০১২ সালে ২৫ মার্চ নবনির্মিত উড়ালপুলের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে নাগেরবাজারের যানজট কাটিয়ে যাতায়াত হয়েছে আরামদায়ক। ১.৮ কিমি রাস্তা পার করতে যেখানে প্রায় ২০ মিনিট লাগত, এখন চার মিনিট সময় লাগছে। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটছে না।
দমদম রোডের উপর একাধিক স্কুল ও কলেজ আছে। নাগেরবাজার মোড়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভা। ফলে যানজট হয়। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানান দমদমের তৃণমূল প্রার্থী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, ‘দমদম রোডের প্রাইভেট রোডের মুখ থেকে একটি উড়ালপুল নাগেরবাজার মোড়ের উড়ালপুলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এছাড়া দমদম এইচএমভি থেকে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত আর একটি উড়ালপুল হবে। রাজ্যের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সরকার আসার পর আমরা রূপায়ণ করব।’ দমদমের সিপিএম প্রার্থী ময়ুখ বিশ্বাস বলেন, ‘এই পরিকল্পনা আজকের নয়। দমদম রোড ও যশোর রোডে যানজট কমাতে উড়ালপুলের পরিকল্পনা সুভাষ চক্রবর্তী করেছিলেন। কিন্তু গত ১৫ বছরে তৃণমূল কিছুই করেনি। আমাদের আন্দোলনের চাপে তৃণমূল ভরাডুবি আটকাতে নতুন করে উড়ালপুলের কথা বলছে। আমাদের ইস্তহার ও প্রচারেও উড়ালপুলের কথা বলা হচ্ছে।’ বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ বক্সি বলেন, ‘ব্রাত্যবাবু দমদমের তিনবারের বিধায়ক। আগে বলেছিলেন বান্ধবনগর সহ আশপাশের এলাকার জমাজলের সমস্যা মেটাতে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনেজ ব্যবস্থা হবে। পাম্প বসিয়ে জল বের করা হবে। আসলে ভোট বড়ো বালাই। দমদমের মানুষকে বোকা বানিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল।’