এই সময়, চুঁচুড়া: মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময়েও প্রার্থীরা কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ। তার প্রমাণ মিলল, তাঁদের পোশাকের রং নির্বাচনে। এই সময়ে সব কিছুতেই চোখ বুজে বিশ্বাস রাখতে হচ্ছে। বিশ্বাস মেনে, পরম্পরা মেনে মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচারে নামা যেমন রয়েছে, একইসঙ্গে বাদ যাচ্ছে না 'শুভ' রঙে বিশ্বাসও। প্রার্থীদের অধিকাংশই এখন কালার থেরাপিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়েও বিশাল মিছিল, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা যেমন রয়েছে, তেমনই পরনে থাকছে প্রার্থীর বেছে নেওয়া বিশেষ রঙের পোশাকও। নির্বাচনী ভাষণের মতো এ-ও যেন জয়ের এক অঙ্গাঙ্গী অংশ হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ে প্রার্থীদের মুখের বুলির মতোই সোচ্চার হয়ে উঠল তাঁদের নির্বাচিত রং-ও।
টকটকে লাল পাঞ্জাবি পরে মনোনয়ন জমা দিতে এলেন বলাগড়ের তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন ধাড়া। বললেন, 'জো জিতা ওহি সিকন্দর।' মঙ্গলবার হুগলি ডিস্ট্রিক্ট প্ল্যানিং অফিসার বিকাশ মজুমদারের কাছে মনোনয়ন জমা দেন রঞ্জন। বলেন, 'আমি মা কালীর ভক্ত, তাই লাল পরে এসেছি। পোশাকের সঙ্গে লাল-নীল-সবুজের কোনও বিষয় নেই।' সূত্রের খবর, শুধু মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্যই পাঞ্জাবিটি কিনেছেন রঞ্জন। শুধু রঙে নয়, বক্তব্যেও তীব্রতা ফোটালেন তিনি। বলাগড়ে রঞ্জন ধাড়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন এক সময়ে তাঁরই সতীর্থ সুমনা সরকার। রঞ্জন বর্তমানে হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি। যখন জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য ছিলেন, সেই সময়ে সহ-সভাধিপতি ছিলেন সুমনা। ২০২১ সালে মুকুল রায়ের হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন সুমনা। বলাগড়ে বিজেপি এ বার তাঁর উপরে আস্থা রেখেছে। সুমনার প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে রঞ্জন বলেন, 'লড়াইয়ের ময়দানে সবাই প্রতিপক্ষ। কে পর্তুগাল, কে আর্জেন্টিনা, কে ব্রাজিল, কে ফ্রান্স, সেটা লড়াইয়ের ময়দানে দেখা যাবে।'
লাল রঙে বামেদের একচেটিয়া আধিপত্য দীর্ঘদিনের। তৃণমূল সেই রঙ এড়িয়ে চলে। সচরাচর লাল রঙের পোশাক পরতে দেখা যায় না তৃণমূল নেতাদের। তাঁদের প্রিয় নীল, সাদা, সবুজ। তবে বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্রকেও প্রায়ই দেখা যাচ্ছে লাল রঙের পাঞ্জাবিতে। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কালার থেরাপি করেন। কোন দিন, কী বার, সেই দেখে, বারের সঙ্গে যে রং শুভ, সেই রঙের পোশাক পরেন।
সপ্তগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী বিদেশ বসু সাদা পাঞ্জাবি, পাজামা পরেই মনোনয়ন জমা দেন চুঁচুড়া মহকুমা শাসকের দপ্তরে। যে কোনও শুভ কাজে সাদা রঙেই তাঁর আস্থা। পুরোনো নেতা-কর্মীদের নিয়ে পায়ে হেঁটেই মনোনয়ন জমা দেন বিদেশ।