তৃণমূল জমানায় যাঁরাই দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। বাদ যাবেন না রাজ্যের মন্ত্রীরাও! হলদিয়ার সভা থেকে এই হুমকিই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, ‘মন্ত্রী হোন বা সান্ত্রী, কেউই বাদ যাবেন না। সকলের হিসাব হবে। জেলে পুরে দেওয়া হবে!’ সেই ছ’টি ‘মোদী গ্যারান্টি’র ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী।
গত লোকসভা ভোট বা তার পরবর্তী সময়ে যত বার বাংলায় এসে সভা করে গিয়েছেন মোদী, তত বার তাঁর ভাষণে 'পরিবর্তনের আহ্বান'ই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মহাজঙ্গলরাজ উৎখাতেরও ডাক দিয়েছেন। যত রাজ্যে বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভাষ্যে পরিবর্তন নজরে এসেছে অনেকের। শুধু ক্ষমতার অলিন্দে ‘বদল’ নয়, বদলের পরে অনেকের ‘হিসাব’-ও নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যাচ্ছে মোদীকে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্পশহর হলদিয়ার সভাতেও এই নতুন প্রবণতাক অন্যথা হল না।
প্রায় ৩৫ মিনিটের ভাষণের অধিকাংশ সময়ই মোদী ব্যয় করেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগের উপর। সে সব নিয়ে কথা বলতে গিয়েই বার বার প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সেই দিন দূরে নয়, যখন পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন হবে। কোনও অত্যাচারীকেই ছাড়া হবে না। সকলের হিসাব নেওয়া হবে।’ বাংলায় শুধু কল্যাণকামী সরকার গড়াই লক্ষ্য নয়, ‘বদলা’ও নেওয়া হবে বলেই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, ‘বাংলায় সবকা সাথ, সবকা বিকাশ', আর লুটেরাদের হিসাব হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’
পিএম বিশ্বকর্মা, পিএম সূর্যঘর, আয়ুষ্মান ভারত এবং চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে না-দেওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মমতার নামোচ্চারণ করেননি তিনি। 'দিদি' শব্দও একবারও বলেননি। মোদী বলেন, 'পিএম নামে এদের এত ঘেন্না যে, প্রকল্পের নামই বদলে দেয়। কিংবা কেন্দ্রের প্রকল্প কার্যকরই করে না। পিএম তো সংবিধানের শব্দ। জনতার শব্দ। তৃণমূলের নির্মল সরকার কেন্দ্রের প্রকল্প চালু হতে দেয় না বলে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়ছে। পিএম এবং সিএম একসঙ্গে কাজ করলে মানুষের ভালো হবে। তাই ডবল ইঞ্জিন সরকার দরকার।'
গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ফলাফলের প্রসঙ্গও টেনেছেন মোদী। বলেছেন, 'পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে পরিবর্তন এসেছিল। এবার ভবানীপুরেও হবে। গোটা বাংলাতেও হবে।' তৃণমূল সরকারকে বিঁধে মোদী বলেন, এখন হলদিয়ার শিল্পতালুকে তালা। আগে এখানে কাজের জন্য লোক আসত। এখন এখানকার লোক আন্দামানে কাজে যায়। অন্য রাজ্যে কাজে যায়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতিরও অভিযোগ তুলেছেন মোদী। বলেছেন, 'তৃণমূল নিজের ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে ধর্ম দেখে সংরক্ষণ দেয়। কোর্ট বারবার এটা নিয়ে ওদের ভর্ৎসনা করেছে। তার পরেও ওরা থামেনি। বিজেপি এখানে সংবিধান মেনে কাজ করবে। যার যা অধিকার, বিজেপি সরকার তাদের তা দেবে।'
হলদিয়ার সভা থেকে পাঁচ গ্যারান্টিরও ঘোষণা করেছেন মোদী। তাঁর ঘোষণা, এক, ভয়মুক্ত বাংলা গড়বে বিজেপি। ভরসার সরকার গড়া হবে। দুই, বিজেপি সরকার জনতার কাছে জবাবদিহি করবে। তিন, সব দুর্নীতির অভিযোগের ফাইল খুলবে। চার, তৃণমূল জমানায় যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, সকলকে জেলে পোরা হবে। মন্ত্রী-সান্ত্রী, কেউ রেহাই পাবেন না। পাঁচ, শরণার্থীরা সব অধিকার পাবেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের বার করে দেওয়া হবে। ছয়, বিজেপি সরকারে এলেই সপ্তম পে কমিশন গঠন করা হবে।