• মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি! ভুল কবুল বাম–প্রার্থীর
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • বাবলু সাঁতরা, ঘাটাল

    কবি বলেছেন, ‘ছুটলে কথা থামায় কে?’ ভোটের কথকতায় সেই কথার বেগে তিনিও বলেছেন, ‘মাসে দেড় হাজার, দু’হাজার টাকা দিয়ে লাভ নেই। ওই টাকায় কিছুই হয় না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রত্যেক গরিব মানুষকে প্রতি মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা করে দেবো। ভোটে জিতলেই এক বছরের মধ্যে তা চালুও করব।’

    বুধবার ভোট–প্রচারে বেরিয়ে ঘাটালের সিপিএম প্রার্থী শান্তিনাথ সাতিকের মুখে এমন প্রতিশ্রুতি শুনে তৃণমূল ও পদ্ম–শিবির তো বটেই, চমকে উঠেছিলেন বামফ্রন্টের লোকজনও। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অশোক সাঁতরা বলেন, ‘এমনটা কেউ বলে থাকলে মোটেই ঠিক বলেননি। দল এ রকম কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রতিটি প্রবীণ নাগরিককে মাসে ছ’হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

    বেগতিক দেখে ভুল কবুল করে শান্তিনাথও বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে বলতে গিয়ে আমারই ভুল হয়েছে। আমি আসলে বলতে চেয়েছি, প্রত্যেক গরিব মানুষ মাসে যাতে কমপক্ষে সাড়ে সাত হাজার টাকা রোজগার করতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হবে।’ কিন্তু কথায় আছে, মুখের কথা আর হাতের তির একবার বেরিয়ে গেলে ফেরানো যায় না। অতএব, ঘাটাল জুড়ে এখন মুখে মুখে ঘুরছে বাম প্রার্থীর ‘ভাতা–প্রতিশ্রুতি’।

    তৃণমূল ও বিজেপি— দুই দলেরই এখন ভোট–ময়দানে প্রচারের অন্যতম বড় হাতিয়ার ‘ভাতা’। তৃণমূল প্রচার করছে দেড় হাজার টাকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে। বিজেপিও টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ করে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’–এর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এ দিন ঘাটালের সিপিএম প্রার্থীর ‘সাড়ে সাত হাজার টাকা ভাতা’–র প্রতিশ্রুতিতে হইচই শুরু হয়েছে।

    ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দার বলছেন, ‘ক’দিন আগেও ওরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ করেছিল। ভাতাকে ওরা ভিক্ষার সঙ্গে তুলনা করেছিল। কমরেডরা এখন তা হলে মানছেন যে, গরিব মানুষের জন্য আমাদের নেত্রীর ভাবনা সঠিক।’

    সিপিএম প্রার্থীর মুখে ভাতা–প্রতিশ্রুতি শুনে ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাটের কটাক্ষ, ‘আগে ওঁরা খাতা খুলতে পারেন কি না দেখুন! তার পরে ভাতা নিয়ে ভাববেন। ৩৪টা বছর ধরে রাজ্যটাকে শেষ করে দিয়ে এখন আবার মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।’

  • Link to this news (এই সময়)