• ‘৩২ লক্ষের নাম তুলেছি, বাকিদেরও নাম তুলব’, মিনাখাঁ থেকে বার্তা মমতার
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ‘৩২ লক্ষের নাম তুলেছি, বাকিদেরও নাম তুলব’— উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটের প্রচারে গিয়ে মমতা জানান, এই নির্বাচন মানুষের অস্তিত্বের লড়াই, বাংলার অস্তিত্বের লড়াই। মমতার কটাক্ষ, বিজেপির রাজ্যগুলিতে বাংলার মানুষ গেলে বাংলাদেশি বলা হয়, অথচ দিল্লি থেকে বিজেপির নেতারা এসে বাংলাকে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কথা বলেন। বুধবারও ওডিশায় বাঙালির উপরে অত্যাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি গণতন্ত্রকে চৈত্রের সেলের মতো বিক্রি করে দিয়েছে বলে তোপ দাগেন মমতা।

    মমতা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আমি ৩২ লক্ষ লোকের নাম তুলেছি। আগামিদিন সকলের নাম তুলব। আমার একটাই দুশ্চিন্তা, তাঁদের নাম ভোটের পরে উঠলে তাঁদের অস্তিত্ব থাকবে, কিন্তু তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।’ অসমের মতো বাংলাতেও NRC করার পরিকল্পনা রয়েছে দিল্লির বিজেপি সরকারের, এ দিন আরও একবার সেই কথাও শোনা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। তিনি বলেন, ‘৯০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। কেন ভোট কাটছে জানেন? নেক্সট প্ল্যান এনআরসি। ৬ বছর আগে অসমে করেছিল। ১৯ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়েছিল। এর মধ্যে ১৩ লক্ষ হিন্দু ছিলেন, ৬ লক্ষ মুসলমান ছিলেন। যে হেতু আমরা এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেবো না, তাই বিজেপি চাইছে যে ভাবেই হোক বাংলা দখল করতে।’

    মাছ-মাংস খাওয়া নিয়েও আরও একবার বিজেপিকে একহাত নেন মমতা। বাংলাকে অসম্মান করে, ভিন রাজ্যে বাঙালিকে অসম্মান করে ভোটে জেতা যে সম্ভব নয়, সেই বার্তাও দেন বিজেপিকে। মমতার কথায়, ‘যার যা খুশি খাবেন, পরবেন। এই যে মাছের ভেড়িতে মাছ চাষ করছেন, আগামিদিন কী খাবেন? সব বন্ধ করে দেবে। বিজেপিকে ভোট দিলে সবই চলে যাবে।’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে ইলিশ মাছের জন্য বাংলাদেশের উপরে ভরসা করতে হলেও ২০১৩ সালে ইলিশের জন্য ডায়মন্ড হারবারে রিসার্চ সেন্টার করা হয়েছে। আগে হায়দরাবাদ থেকে ডিম আনা হতো, এখন বাংলাতেই পর্যাপ্ত ডিমের জোগান রয়েছে। বাংলাতেই চুনোপুঁটি সংরক্ষণ করা হয়। এখন আর ভিন জায়গা থেকে মাছ, ডিম কিনে খেতে হয় না।

    সভা থেকে সতর্কও করেন মমতা। অভিযোগ তোলেন, এখন ৫০০ টাকা ক্যাশ দিয়ে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এজেন্সি দিয়ে অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার চেষ্টাও হচ্ছে। সেই টাকা ঢুকিয়ে ইডি-সিবিআই দিয়ে তল্লাশি করানো হবে।

  • Link to this news (এই সময়)