• জ্ঞানেশের চোখে চোখ রেখে জবাব, ‘২৫ বছর কাজ করছি...’! কে এই কোচবিহারের অপসারিত পর্যবেক্ষক?
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নির্বাচন কমিশনই তাঁকে নিযুক্ত করেছিল। কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে অপসারণও করে দিল কমিশন! নিজের আওতাধীন কেন্দ্রে কত ভোটকেন্দ্র আছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রশ্নে তা বলতে না পারায় কোচবিহার দক্ষিণের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইএএস অফিসার অনুরাগ যাদবকে বুধবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনা শুধু এই নয়। সূত্রের দাবি, বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন অনুরাগ। জ্ঞানেশকে তিনি বলেছিলেন, 'আপনি এ ভাবে কথা বলবেন না।' ঘটনাচক্রে, বৈঠক চলাকালীনই অনুরাগকে অপসারণ করেন জ্ঞানেশ।

    অনুরাগ উত্তরপ্রদেশের প্রিন্সিপাল সচিব পদমর্যাদার আইএএস অফিসার। কিছু দিন আগেই তাঁকে সমাজকল্যাণ এবং সেনাকল্যান দপ্তরের দায়িত্ব দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার। তার পরেই অনুরাগকে কোচবিহারের ভোট পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেয় কমিশন। এর আগে উত্তরপ্রদেশে তথ্যপ্রযুক্ত দপ্তরের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

    বুধবার পর্যবেক্ষকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন জ্ঞানেশ। সেই বৈঠকের মাঝেই কোচবিহার (দক্ষিণ) কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক অনুরাগকে অপসারণ করা হয়। অভিযোগ, তিনি জ্ঞানেশের প্রশ্নের জবাবে বলতে পারেননি, তাঁর আওতাধীন কেন্দ্রে কতগুলি ভোটকেন্দ্র আছে! তবে একটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, বৈঠকে জ্ঞানেশ সকল পর্যবেক্ষকদেরই এক এক করে জিজ্ঞেস করছিলেন, তাঁর আওতাধীন কেন্দ্রে কত ভোটকেন্দ্র আছে। সেই প্রশ্নের জবাব দিতে একটু দেরি হয়েছিল অনুরাগের। তাতেই রেগে যান জ্ঞানেশ!

    ওই সূত্রের দাবি, চটপট জবাব দিতে না পারায় জ্ঞানেশ অনুরাগকে বলেছিলেন, 'সাধারণ বিষয় জানেন না!' মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের এই মন্তব্যের পরেই বাদানুবাদের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনুরাগ তৎক্ষণাৎ জ্ঞানেশকে জবাব দেন, 'আমি ২৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। আপনি এ ভাবে আমার সঙ্গে কথা বলবেন না।' উত্তরপ্রদেশের আইএএস অফিসার অনুরাগের এই পাল্টা জবাবের পরেই বৈঠকে উপস্থিত সকলে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। বেশ কিছু ক্ষণ কেউ কোনও কথা বলেননি। তার পর নীরবতা ভেঙে জ্ঞানেশই পরবর্তী বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। অনুরাগের বিষয়টি নিয়ে তিনি আর কথা বাড়াননি।

    অনুরাগের অপসারণে কমিশন এবং প্রশাসনের একাংশের ব্যাখ্যা, পর্যবেক্ষকের কাজে গাফিলতি যে বরদাস্ত করা হবে না, সেই বার্তা দিতেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পাল্টা অভিমতও রয়েছে। কারও কারও মত, নিজের আওতাধীন এলাকায় কত ভোটকেন্দ্র আছে, তা জানা অবশ্যই জরুরি। কারণ, এগুলি খুবই সাধারণ তথ্য। কিন্তু এতটাও গুরুতর নয় যে, না জানলে দায়িত্ব থেকেই সরিয়ে দেওয়া হবে। ভোট পর্যবেক্ষকদের অনেক দায়িত্ব থাকে। অনেক তৎক্ষণাৎ জবাব না দেওয়াটা সম্ভব না-ই হতে পারে, কারণ অনুরাগ এ রাজ্যের নন। তিনি উত্তরপ্রদেশের। মানিয়ে নিতেও সময় লাগে। তাই ভোটকেন্দ্রের তথ্য না জানা একমাত্র কারণ নয় বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশ।

    অনুরাগকে সরানোর পরে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ ভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচবিহার (দক্ষিণ)-এর তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক। তিনি বলেন, 'এই নির্বাচনী ব্যবস্থায় ব্যতিক্রমী চরিত্র অনুরাগ যাদব। যিনি সাহস করে প্রতিবাদ করেছেন! নব্বই ভাগ আইএএস অফিসারদের ধমকানো, চমকানো হচ্ছে। আইএএস অফিসারেরা প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন। আমরা চাই, এটা চলতে থাকুক। যাঁরা বিজেপিকে জেতানোর ঠিকা নিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে সব আইএএস অফিসার নেই। সেটাই অনুরাগ যাদব প্রমাণ করেছেন।'

  • Link to this news (এই সময়)