আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর ঘিরে মৃত্যুমিছিল থামছেই না বাংলায়। এবার হাঁসখালি থানার বগুলা এলাকার ৬৮ বছর বয়সি জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাসের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ট্রাইব্যুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাসের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁর এবং তাঁর এক কন্যার নাম বাদ পড়ে যায়।
সেই কারণে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে এদিন সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বগুলা থেকে ট্রেনে রানাঘাটে আসেন তিনি। রানাঘাট এসডিও অফিসের সামনে ট্রাইব্যুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় দ্রুত তাঁকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতের পরিবারে রয়েছেন চার কন্যা ও এক পুত্র। পুত্র ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। চার কন্যার বিয়ে হয়ে গেলেও তাঁরাই বাবার দেখাশোনা করতেন বলে জানা গেছে। ফলে এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃতের কন্যা চম্পা বিশ্বাস জানান, সকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁরা রানাঘাটের এসডিও অফিসে আসেন। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরই তাঁর বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।
উল্লেখ্য, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয় এ রাজ্যে। এর আগেও এসআইআর আতঙ্কে একাধিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মৃতের কন্যা। পরিবারের অভিযোগ, এই মৃত্যুর জন্য দায়ী বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থা। চম্পা বিশ্বাসের কথায়, “যা ক্ষতি হওয়ার আমাদেরই হল। এখন কাকে বলব, কে আমাদের কথা শুনবে?” তার এই প্রশ্ন যেন বৃহত্তর এক বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন।
বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন।
এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।