• ভিডিও 'ফাঁস' হতেই মুর্শিদাবাদে দলে ভাঙন
    আজকাল | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক : রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তেই ফের খবরের শিরোনামে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবারই প্রকাশ্যে এসেছে হুমায়ুনের একটি বিতর্কিত ভিডিও। যেখানে তাঁকে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য ১০০০ কোটি টাকা এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির কাছে চাইতে শোনা যাচ্ছে। 

    এই ঘটনার পরই  ভাঙনের মুখে পড়ল তাঁর :সদ্যোজাত' দলটি। ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বৃহস্পতিবার 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন মুর্শিদাবাদের একাধিক নেতা।

    বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবীরের দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সাগরদিঘি ব্লক সভাপতি আবু বক্কার । তাঁর সঙ্গে তৃণমূলে নাম লেখান মিমের সাগরদিঘি ব্লক সভাপতি মইনুল হকও।

    আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সাগরদিঘি ব্লক সভাপতির পদ ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে আবু বাক্কার জানান, “সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস যেভাবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নয়নের কাজ করে চলেছেন, তা দেখে আমি আপ্লুত। দাদার পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতেই তৃণমূলে যোগ দিলাম। কোনও রাজনৈতিক চাপে নয়, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় এসেছি। আমি জানি, সাগরদিঘির মানুষ দু’হাত তুলে বায়রন বিশ্বাসকে আশীর্বাদ করে আবারও জিতিয়ে আনবেন।”

    তিনি বলেন ,"সংখ্যালঘু সমাজের মানুষের উন্নয়নের জন্য হুমায়ুন কবীর কাজ করছেন তা জেনেই তাঁর দলে যোগ দিয়েছিলাম। আজ ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কীভাবে হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে খেলছেন। তাই আর আমার পক্ষে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'তে থাকা সম্ভব নয়। আমার সঙ্গে আরও শতাধিক কর্মী আজ তৃণমূলে যোগদান করলেন। "

    অন্যদিকে আজই সাগরদিঘিতে তৃণমূলে  'ঘর ওয়াপসি' হল 'মিম' দলের ব্লক সভাপতির। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে হুমায়নের দলের সঙ্গে জোট করে ভোটে লড়ছে মিম। বছরখানেক আগে 'অভিমানে' তৃণমূল ছেড়েছিলেন সাগরদিঘির নেতা মইনুল হক।  পরে তিনি মিম দলের ব্লক সভাপতি পদে নিযুক্ত হন। আবু বক্কারের সঙ্গে মইনুলও সাগরদিঘির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। 

    মিম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে মইনুল হক বলেন, “উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলাম। সাগরদিঘির বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখেছি, মানুষ দু’হাত তুলে তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন করছেন। কারণ তাঁরা জানেন, রাজ্যে উন্নয়ন একমাত্র তৃণমূলই করতে পারে। জাতি,ধর্ম, দল নির্বিশেষে  ১০০-এরও বেশি সরকারি প্রকল্পের  সুবিধা সমগ্র রাজ্যবাসী  পাচ্ছেন। তাই আমি এবং আমার সঙ্গে মিমের বহু কর্মী-সমর্থক তৃণমূলে যোগদান করলেন ।”

    ভোটের ঠিক আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' এবং মিম দলের  ব্লক সভাপতির তৃণমূলে যোগদান হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস বলেন,"মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি ছাড়া এই রাজ্যে আর কেউ উন্নয়ন করতে পারবেন না। তাই সকলেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন।" তিনি বলেন,"সাগরদিঘির  মাটিতে সকলেই জেতার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন প্রার্থী জিতবে তা ঠিক করবে সাগরদিঘির জনগণ। "

    সাগরদিঘি ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির নেতা শামসুল হুদা বলেন, “ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে, এটা খুবই আনন্দের খবর। আমরা জানতাম, কোনও লোভ-লালসায় নয়, অভিমানের বশেই অনেকে দল ছেড়েছিলেন। এখন ভুল বুঝতে পেরে আবারও ফিরে আসছেন। ভোটের মাত্র ১৭-১৮ দিন আগে আবু বক্কারের মতো নেতা দলে ফেরায় তৃণমূলের হাত আরও শক্ত হল।”
  • Link to this news (আজকাল)