• ‘মহাভারত’ মামলার ইতি! ১০ বছরের লড়াইয়ে সুপ্রিম রাশ, স্ত্রী পাচ্ছেন ৫ কোটি টাকা
    এই সময় | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। আর পাঁচটা সাধারণ দম্পতির মতোই দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে এক ছাদের তলায় সংসার পেতেছিলেন দু’জনে। কোল আলো করে এসেছিল দুই পুত্রসন্তানও। কিন্তু সেই রূপকথার আয়ু ছিল মাত্র কয়েক বছর। ২০১৬ সালেই সুর কাটে, শুরু হয় ভাঙন। আর তারপর দীর্ঘ ১০ বছরের এক তিক্ত আইনি লড়াই। স্বামী-স্ত্রীর এই লড়াই এতটাই ভয়াবহ আকার নিয়েছিল যে, খোদ সুপ্রিম কোর্ট একে ‘মহাভারতের যুদ্ধ’ বলেছে। অবশেষে সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এক দশক ধরে চলা এই পারিবারিক বিবাদের আইনি নিষ্পত্তি করল দেশের শীর্ষ আদালত।

    ২০১৬ সালেই আলাদা থাকা শুরু করেছিলেন তাঁরা। আর তারপরেই শুরু হয় কাদা ছোড়াছুড়ি। স্বামী পেশায় আইনজীবী। আইনি জ্ঞান তাঁর টনটনে। সেই জ্ঞানের অপপ্রয়োগ করে স্ত্রী এবং তাঁর পরিবার, এমনকী স্ত্রীর আইনজীবীদের বিরুদ্ধেও প্রায় ৮০টির বেশি মামলা দায়ের করেছিলেন তিনি। আদালতে স্ত্রীর আইনজীবীর বয়ান অনুযায়ী, আর্থিক দায় এড়াতে একাধিক সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা পর্যন্ত দিয়েছিলেন স্বামী।

    স্বামীর ঘর ছাড়ার পরে দুই ছেলেকে মানুষ করতে কলকাতায় চলে এসেছিলেন স্ত্রী। এখানে কাজও করছিলেন। কিন্তু বড় ছেলের দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা ছিল বলে ছেলেদের নিয়ে তিনি মুম্বইয়ে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার জন্যই তাঁর আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল।

    অন্যদিকে, স্বামীর অভিযোগ করেছিলেন, স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা এবং ৪৯৮এ ধারায় মিথ্যা মামলা করেছিলেন। এর জেরে তাঁকে বেশ কিছুদিন পুলিশ হেফাজতে থাকতে হয়। এই ঘটনা তাঁর পেশাগত সম্মান নষ্ট করেছে এবং তিনি মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি ছিল, স্ত্রী নিজে উচ্চশিক্ষিত এবং যথেষ্ট উপার্জন করেন। তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে ‘অসহায়’ বলে দাবি করেছেন।

    দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ স্বামীর আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্বামীর ৮০টি মামলা দায়ের করা থেকেই তাঁর ‘অত্যন্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ’ মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

    আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত এবং উপার্জন করলেও, স্ত্রীর প্রতি আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব এবং তাঁর পিতৃত্বের দায়িত্ব এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই স্বামীর। আর্থিক অক্ষমতার যে দাবি স্বামী করেছেন, তা আসলে দায়িত্ব এড়ানোর একটি কৌশল মাত্র।

    এই বিয়েকে ‘কার্যত মৃত’ বলে ঘোষণা করে শীর্ষ আদালত। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে।সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টকে সরাসরি চূড়ান্ত রায় দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

    - বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত, আগামী এক বছরের মধ্যে স্ত্রীকে এককালীন ৫ কোটি টাকা খোরপোষ হিসেবে দিতে হবে স্বামীকে।

    - দুই নাবালক সন্তান মায়ের হেফাজতেই থাকবে, তবে স্বামী নির্দিষ্ট সময়ে তাদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার পাবেন।

    - ৫ কোটি টাকা পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে স্ত্রীকে তাঁর শ্বশুরের মালিকানাধীন মুম্বইয়ের লোখান্ডওয়ালার বিলাসবহুল 3BHK ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে হবে।

    - উভয় পক্ষের দায়ের করা সমস্ত বিচারাধীন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা অবিলম্বে খারিজ বলে গণ্য করা হবে। ভবিষ্যতে একে অন্যের বিরুদ্ধে নতুন করে আর কোনও মামলা করা যাবে না।

  • Link to this news (এই সময়)