• এক দশক ধরে ঝুলে দ্বারকেশ্বরের নির্মীয়মান সেতু, ভোটের মুখে কী বলছে ওন্দাবাসী?
    এই সময় | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) আসে, ভোট যায়। শাসক, বিরোধী দুই শিবিরের মুখেই শোনা যায় সেই চর্বিত চর্বন। মাঝপথে থমকে থাকা সেতুর কাজ খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ হবে। কিন্তু ভোট ফুরোলেই সব শেষ। শুখা মরশুমে নদীর বুকে তৈরি অস্থায়ী কাঁচা রাস্তা, আর বর্ষায় ডিঙি নৌকা। ঝুঁকির দ্বারকেশ্বরে এ ভাবেই চলে পারাপার। বাঁকুড়ার (Bankura) ওন্দা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এতেই অভ্যস্ত।

    বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের মাঝ বরাবর চলে গিয়েছে দ্বারকেশ্বর নদ। একদিকে গামিদ্যা, মাজডিহা, কষ্টিয়া, নিকুঞ্জপুর। অন্য দিকে, চাবড়া-সহ ওন্দা ব্লক সদর এবং সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। লেখাপড়া থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বানিজ্য থেকে শুরু করে জীবন-জীবিকার নিত্যদিনের প্রয়োজনে দু’পাড়ের মানুষকে অহরহ পারাপার করতে হয় দ্বারকেশ্বর নদ। শুখা মরশুমে জল কমে আসলে নদী বক্ষে অস্থায়ী রাস্তা তৈরী করেন গ্রামবাসীরা।

    বর্ষার শুরুতেই জলের তোড়ে সেই রাস্তা ধুয়ে মুছে যায়। তখন ভরসা ডিঙি নৌকা। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষকে কখনও সংকীর্ণ অস্থায়ী রাস্তা ধরে আবার কখনও ডিঙি নৌকায় গাদাগাদি করে নদী পারাপার করতে হয়। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে। অথচ এমন দুর্ভোগের ছবিটাই বদলে যেত যদি চাবড়া গামিদ্যা সংযোগকারী সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হতো। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ২০১৬ সালে দ্বারকেশ্বর নদের উপর চাবড়া গামিদ্যা সংযোগকারী সেতু তৈরির কাজ শুরু করে রাজ্য সরকার। নদীর বুকে মাথা তুলতে শুরু করে কংক্রিটের পিলার। বেশ কিছুটা অংশে উপরের ঢালাইয়ের কাজও হয়ে যায়। কিন্তু, তারপরেই সব বন্ধ। দীর্ঘ এক দশক ধরে এ ভাবেই ঝুলে রয়েছে সেতুর নির্মীয়মাণ অংশ।

    ফের সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। শাসক দলের মুখে শোনা যাচ্ছে সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করার আশ্বাস। বিরোধীরা বলছেন রাজনৈতিক কারণেই সেতু নির্মাণের কাজ থমকে রয়েছে মাঝপথে। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে মনের ভিতর লালিত পাকা সেতু দিয়ে বছরভর দ্বারকেশ্বর নদ পারাপারের স্বপ্নটুকু।

    ওন্দা বিধানসভা এক সময়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে বিধায়ক হন তৃনমূলের অরূপ খাঁ। ২০১৬-তেও তিনিই ক্ষমতা ধরে রাখেন। ২০২১ সালে পরিবর্তন আসে ওন্দায়। অরূপ খাঁ-কে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন বিজেপির অমরনাথ শাখা। ২০২৬ এর নির্বাচনেও তিনিই বিজেপির প্রার্থী। তাঁর সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামছেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃনমূলের সভাপতি সুব্রত দত্ত। দু’জনের মুখেই এখন সেতুর কথা। ওন্দাবাসীর প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত সেতু হবে?

  • Link to this news (এই সময়)