এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শীর্ষ ১০টি কেন্দ্রের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, প্রথম ছ’টির মধ্যে পাঁচটিই মুর্শিদাবাদ জেলার। সমশেরগঞ্জের পাশাপাশি রঘুনাথগঞ্জে ৪৬ হাজার ১০০, সূতিতে ৩৭ হাজার ৯৬৫, মথাবাড়িতে ৩৭ হাজার ২৫৫ এবং জঙ্গিপুরে ৩৬ হাজার ৫৮১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। একটি জেলাতেই এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যাচাই প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে।
এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতার মেটিয়াবুরুজ কেন্দ্র। সেখানে ‘নট এলিজিবল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৭৯ জন ভোটার। পাশাপাশি মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের একাধিক কেন্দ্র— রতুয়া, করণদিঘি, গোলপোখর এবং মালতিপুরেও বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, নথিপত্র যাচাই এবং একাধিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই নথির অসঙ্গতি, ঠিকানার অমিল কিংবা একাধিক স্থানে নাম থাকার মতো কারণ সামনে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে বিরোধী শিবির এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই প্রবণতা বেশি— এমনই দাবি তাদের।
অন্যদিকে, শাসকদলের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়াই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে হয়েছে এবং এতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। বিরোধীরা অযথা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও পাল্টা দাবি তাদের।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক তরজা উসকে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার জবাবে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার— সকলেই।