• এসআইআরে ৯১ লক্ষের মধ্যে ৬৩ শতাংশই বাদ হিন্দু ভোটার, দাবি তৃণমূলের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • তৃণমূলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ লক্ষ হিন্দু এবং প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ মুসলিম। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাদ পড়ে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ নাম, যার মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ২৮ হাজার হিন্দু এবং প্রায় ১৩ হাজার মুসলিম। তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে, যেখানে মুসলিম নামের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।প্রায় সাড়ে ১৭ লক্ষেরও বেশি। হিন্দু নাম বাদ পড়ে প্রায় ৮ লক্ষ ৩৫ হাজার।

    শতাংশের হিসেবে দেখা যায়, প্রথম পর্যায়ে বাদ পড়া নামের প্রায় ৭৫ শতাংশ হিন্দু এবং ২৩ শতাংশ মুসলিম।অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাম বাদ পড়েছিল প্রায় ২ শতাংশ।  দ্বিতীয় পর্যায়ে হিন্দুদের হার আরও বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৭ শতাংশ। মুসলিম আড়াই শতাংশ। তবে তৃতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়ার তালিকায় মুসলিমদের হার প্রায় ৬৫ শতাংশ আর হিন্দুদের হার প্রায় ৩১ শতাংশ। অন্যান্য ৪ শতাংশের কিছু বেশি।

    সব মিলিয়ে তৃণমূলের দাবি, মোট বাদ পড়া নামের প্রায় ৬৩ শতাংশ হিন্দু এবং ৩৫ শতাংশ মুসলিম, অর্থাৎ অনুপাত প্রায় ২:১। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেছেন, ‘অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা খুঁজতে গিয়ে বিজেপি সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। গরিব হিন্দুরাও ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পায়নি। ৫৭ লক্ষেরও বেশি হিন্দুর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।‘

    অন্যদিকে, বিজেপি এই পরিসংখ্যানের সত্যতা সরাসরি অস্বীকার না করলেও প্রশ্ন তুলেছে—এই তথ্য তৃণমূলের হাতে এল কীভাবে। বিজেপি মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ী বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশন তো এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি। তৃণমূল তা হলে পেল কোথা থেকে? যে বিএলও-রা তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আন্দোলন করছিলেন, তাঁরাই কি তা হলে তৃণমূলের হাতে এই তথ্য তুলে দিয়েছেন?’

    তবে তৃণমূলের দাবি, বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যেই এই তালিকা ডিজিটাল আকারে বিশ্লেষণ করেছে এবং সংগঠনের কাছেও বুথভিত্তিক তথ্য ছিল। পাশাপাশি, অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই বাদ পড়া নামগুলিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, গুণগত দিক থেকেও বিচার করা জরুরি।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)