• বাংলাকে টার্গেট পরে, আগে দিল্লি সামলান: মুখ্যমন্ত্রী
    এই সময় | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের মেয়াদ আছে ২০২৯ পর্যন্ত। কিন্তু ২০২৬–এর অগস্টের পরেই দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পতন শুরু হয়ে যাবে বলে ঘোষণা করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

    প্রধানমন্ত্রী মোদী বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার সভায় বলেন, তৃণমূলনেত্রীর গড় ভবানীপুরই রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পথ মসৃণ করবে। এর ঘণ্টাখানেক পরেই উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ায় নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলতি বছরেই দিল্লিতে বিজেপি সরকারের পতন ঘটার পূর্বাভাস দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মিনাখাঁ, পলতা, আগরপাড়া, বরাহনগর ও বাগুইআটিতে পরপর জনসভা এবং রোড–শো করেন তৃণমূলনেত্রী। মোদীকে নিশানা করে মমতা আগরপাড়ার সভায় বলেন, ‘বাংলাকে কী টার্গেট করবেন! আগে দিল্লি সামলান। আমি যদি ভালো করে দেশকে চিনে থাকি, ২০২৬–এর অগস্ট মাস থেকে আপনাদের পতন অনিবার্য। আমাকে কিছু করতে হবে না। নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ করবেন। আগে নিজেদের সামলান, তারপরে বাংলার দিকে তাকান।’

    তৃণমূল নেতাদের একাংশের পর্যবেক্ষণ, পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত করেছেন দলনেত্রী। গেরুয়া শিবিরে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য কোনও অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের দিকে তাকিয়েও মমতা এই মন্তব্য করে থাকতে পারেন বলে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য। আগরপাড়ার সভায় কারও নাম না করলেও মমতার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য— ‘আমি মুখ খুলব? মুখ খুলছি না এখনও। আমরা একটা সীমারেখা মানি। সারা বিশ্ব কিন্তু জেনে গিয়েছে। রাজনীতি করতে গেলে নিজেদের চরিত্র ঠিক রাখতে হয়।’ তৃণমূল নেতাদের পর্যবেক্ষণ, গেরুয়া শিবিরের ক্ষমতার শিখরে থাকা কোনও ব্যক্তির উদ্দেশেই অথবা কোনও বিতর্কের দিকেই ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করেছেন মমতা।

    বিধানসভা ভোটে ভবানীপুরে পদ্মফুলের জয়ের সম্ভাবনাও ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা। শুভেন্দু অধিকারী যে ভাবে নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছিলেন, সেই ভাবে ভবানীপুরও জিতবেন বলে মোদী মনে করলেও এই সম্ভাবনাকে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেছেন, ‘ভবানীপুরে প্রথমে ৪৮ হাজার নাম বাদ দিয়েছিল। তারপরে অ্যাজুডিকেশনে ১৪ হাজার নাম রেখেছে। ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার ভোটার বাদের খাতায় রয়েছেন। তাতে কী! চুরি করে (নন্দীগ্রামে) জিতেছিল আগেরবার, এ বারে বলছে ভবানীপুরেও জিতবে। আমি বলছি ঘেঁচু জিতবে!’

    কেন ভবানীপুর–সহ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার জায়গায় নেই, তা নির্বাচনী রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যাও করেছেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯–এর লোকসভা ভোট থেকে গেরুয়া শিবির মোটামুটি ৩৮ শতাংশ ভোট ধরে রাখলেও বিজেপির এখনও রাজ্যের ৮০ হাজার বুথের সব জায়গায় তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো সংগঠন নেই। সব জেলায় দক্ষ ভোট মেশিনারিও নেই। সেই কারণেই মমতা এ দিন পলতা এবং আগরপাড়ার সভায় বলেছেন, ‘ওরা ভাবছে, বহিরাগত লোক এনে ভোটে জিতবে! ওদের মিছিল করার লোক নেই। পাঁচশো টাকা দিয়ে মিছিলে লোক আনার চেষ্টা করছে।’ ২০২১–এর ভোটেও বিজেপি একই ভাবে মিছিল–মিটিংয়ে লোক নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল বলে মমতার দাবি। এই জনসমর্থন ও সংগঠন নিয়ে বাংলায় বিজেপির ‘পরিবর্তন’ এর স্লোগান স্রেফ ‘ফাঁকা বুলি’ বলেও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি। এই প্রসঙ্গেই মোদীর উদ্দেশে মমতার কটাক্ষ, ‘বাংলায় পরিবর্তন! হাওয়ার পরিবর্তন হয় তো! এসো গ্রীষ্মকালে, এসো সাইক্লোনের সময়ে, কখনও এসেছ সেই সময়ে? ভোটের পরে তো তোমার দেখা নাই।’

    রাজ্যে এ দিন পরপর তিনটি সভাতেই মোদী তৃণমূ‍ল জমানার দুর্নীতি নিয়ে আক্রমণ করেছেন। বহুচর্চিত কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ নিয়েও সরব হয়েছেন। তৃণমূলনেত্রীও পাল্টা বিজেপি শাসিত রাজ্যের দুর্নীতির ইস্যুতে সরব হয়েছেন। মমতার কথায়, ‘এরা শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে দুর্নীতির কথা বলছে! আর উত্তরপ্রদেশে হাজার হাজার কেস হয়েছে। শিক্ষকরা প্রতিবাদ করায় তাঁদের মেরেছে। শিক্ষকদের জেলে রেখেছে। ব্যাপম কেসে কী হয়েছিল? উত্তর দিন। ব্যাপম কেসে ৫০ জন তদন্ত করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। যত দোষ নন্দ ঘোষ? তৃণমূলের সব দোষ, আর তুমি ভাজা মাছ উলটে খেতে পারো না? আর কোটি টাকা দামের মাশরুম খাও!’

    মোদী ভাষণে রাজ্যের নারী সুরক্ষা থেকে আইন–শৃঙ্খলার প্রসঙ্গও এসেছে। এই ইস্যুতেও সোজাসাপটা জবাব দিয়েছেন মমতা। তৃণমূলনেত্রীর যুক্তি, ‘এতবড় রাজ্য, একটি–দু’টি ঘটনা যদি ঘটে থাকে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নিই। আপনি বাংলার বদনাম করছেন কেন? মেয়েদের ভোট কেটেছেন কেন?’ ২০১৪–তে ক্ষমতায় আসার সময়ে মোদী বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে এনে জনতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বছরে ২ কোটি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত এক দশকে একটি প্রতিশ্রুতিও মোদীর ‘জুমলা’ সরকার রক্ষা করেনি বলে মমতা অভিযোগ করেছেন। মোদী বাংলায় ‘পরিবর্তন’ চাইলেও গেরুয়া শিবিরের নেতারা বাংলার মনীষীদের অসম্মান করেন বলেও তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ। মমতার কথায়, ‘ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা বলেন! বন্দেমাতরম ঠিক করে গাইতে পারে না! আমার কাছে ভিডিয়ো আছে।’

  • Link to this news (এই সময়)