• নন্দীগ্রামই পথ দেখাবে ভবানীপুরে, দাবি নমোর
    এই সময় | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: হলদিয়ার সভা থেকে ভবানীপুর নিয়ে চ্যা‍লেঞ্জ ছুড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামই পথ দেখাবে ভবানীপুরকে। আর সেই পথ ধরে বিজেপি বাং‍লাও দখল করবে বলে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস। তবে মোদীই প্রথম নন, এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বাংলা দখলের ‘প্রাণ–ভোমরা’ ভবানীপুরে লুকিয়ে আছে বলে বার্তা দিয়েছিলেন।

    এ বারের বিধানসভা ভোটে সব থেকে ‘হাই–ভোল্টেজ’ কেন্দ্র দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর টক্কর হচ্ছে সেখানে। ভবানীপুর মমতার খাসতালুক। ওই কেন্দ্রে অমিত শাহরা লড়তে পাঠিয়েছেন শুভেন্দুকে। তিনি এ বারের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম এবং ভাবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। গত বিধানসভা ভোটেও মমতা–শুভেন্দুর টক্কর হয়েছিল। সে বার বধ্যভূমি ছিল শুভেন্দুর খাসতালুক— নন্দীগ্রাম। এ বার নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দুর লক্ষ্য, মমতার গড় বলে পরিচিত ভবানীপুরে গিয়েও মমতাকে হারানো। সেই মতো জোরকদমে প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন তিনি। বস্তুত, নন্দীগ্রামের থেকে অনেক বেশি সময় তিনি ভবানীপুরেই কাটাচ্ছেন। শুভেন্দুকে সহয়তা করতে ভবানীপুর–যুদ্ধে তাঁর হয়ে ব্যাট হাতে নেমে পড়েছেন মোদী–শাহরাও।

    বৃহস্পতিবার হলদিয়া, আসানসোল এবং সিউড়িতে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে তিনটি জনসভা করেন মোদী। কিন্তু সেখানেও ভবানীপুরের প্রসঙ্গ আসে নমোর কথায়। এ দিন হলদিয়ার সভা থেকে তিনি কার্যত ভবানীপুর জয়ের স্বপ্ন ফেরি করলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। মোদীর কথায়, ‘পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম যে পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল, এ বার গোটা পশ্চিমবঙ্গ সেই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম যে নজির গড়েছিল, এ বার তার পুনরাবৃত্তি ভবানীপুরে হতে চলেছে। গোটা বাংলাতেই পরিবর্তন হবে।’ তার আগে ওই মঞ্চ থেকে শুভেন্দুও ভবানীপুর কেন্দ্রের গুরুত্ব বোঝাতে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীজি এবং নীতিন নবীনজি আমাকে বলেছেন, নন্দীগ্রামে তো তোমাকে জিততেই হবে। আর ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রীকে আবার হারাতে হবে। মোদীজি আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন, ভবানীপুরে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে দেখাব।’

    গত ২ এপ্রিল ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁকে উৎসাহ দিতে দিল্লি থেকে উড়ে এসেছিলেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হাজরা মোড়ে দাঁড়িয়ে শাহ বঙ্গ–বিজয়ের শর্টকাট রাস্তার হদিশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘একটা একটা করে আসন জিতব আমরা, আর সেই ভাবেই ১৭০-এ পৌঁছে যাব। তবেই পরিবর্তন আসবে। আমার কাছে একটা শর্টকাট আছে। ভবানীপুর জিতলেই পরিবর্তন নিজে থেকেই হয়ে যাবে।’ কী ভাবে শুভেন্দু ভবানীপুরে প্রার্থী হলেন, তার বর্ণনা দিয়ে শাহ সে দিন বলেছিলেন, ‘শুভেন্দুদা শুধু নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমিই তাঁকে বলি, শুধু নন্দীগ্রাম নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তাঁকে হারাতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান‍োর রেকর্ড আছে শুভেন্দুদার। এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ভবানীপুরেই নয়, গোটা বাংলাতেই হারবেন।’ সূত্রের খবর, ভোট প্রচারের একদম শেষ লগ্নে শুভে‍ন্দুর সমর্থনে ভবনীপুরে রোড–শো করতে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভবানীপুর নিয়ে বিজেপির একাংশ যথেষ্ট আশাবাদী। তাদের ব্যাখ্যা, এই কেন্দ্রে বিজেপির ক্ষেত্র প্রস্তুত। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪–এর লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা আসন থেকে লিড পেয়েছিলেন দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায়। শুধু তাই নয়, ভবানীপুর কেন্দ্রে ৩৫ শতাংশের বেশি অবাঙালি ভোটার রয়েছেন বলেও বিজেপির দাবি। যার বড় অংশ প্রথাগত ভাবে তাঁদের সমর্থক বলে ধরে নিচ্ছেন পদ্ম নেতৃত্ব। এই সব তথ্য–পরিসংখ্যানে উৎসাহিত মোদীও। তিনি এ দিন হলদিয়ার সভা থেকে নন্দীগ্রামের পথে ভবানীপুর এবং বাংলা দখলের বার্তা দিয়ে বলেন, ‘বাং‍লায় পরিবর্তনের ঝড় বইছে। তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত।’ তাঁর সংযোজন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে রোজগার মেলা হয়। বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলেও রোজগার মেলা হবে।’ এ দিন আসানসোল এবং সিউড়ির সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পিএম এবং সিএম একসঙ্গে কাজ করলে তবেই বাং‍লার উন্নয়ন হবে। একমাত্র ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলেই সেটা সম্ভব বলেও এ দিন জানিয়েছেন মোদী। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে নমো বলেন, ‘পিএম শব্দটি পছন্দ করে না তৃণমূল। তাই পিএম নাম বাদ দিয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত, পিএম জনআরোগ্য যোজনার মতো প্রকল্প এখানে চালু হতে দেয় না। কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আগে পিএম লেখা থাকলে তৃণমূল সরকার সেটা বাং‍লায় চালু হতে দেয় না।’

  • Link to this news (এই সময়)