দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি
ইচ্ছে ছিল ভোটে দাঁড়াবেন। সেই শখ পূরণ করতে ভোটেই দাঁড়িয়ে গেলেন স্বপ্না বর্মন। তৃণমূলের জোড়াফুল নয়, তাঁর প্রতীক ফুলকপি!
এই স্বপ্না অবশ্য কোনও অ্যাথলিট নন, একজন সাধারণ বাড়ির বউ। তবে, তৃণমূল প্রার্থীর সমনামী হওয়ার বিভ্রাটে প্রচারে পথে নেমে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। কখনও তা 'যুবসাথী' নিয়ে, আবার কখনও প্রশ্ন আসছে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প নিয়েও।
রাজগঞ্জ ব্লকের প্রধান পাড়ার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ রায়ের স্ত্রী স্বপ্না বর্মন। বাপের বাড়ি ফাটাপুকুর এলাকায়। দুই পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে দূর দূর পর্যন্ত কোনও যোগাযোগ নেই। কিন্তু বউমার মনের ইচ্ছা পূরণ করতে ভোটে দাঁড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা। স্থানীয় সারদামণি বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে স্বপ্না রাজগঞ্জ কলেজ থেকে কলা বিভাগে স্নাতক হন। তিনি বলেন, 'কলেজে পড়ার সময়ে তৃণমূলের ছাত্র সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কলেজ পাশ করার পরে বাড়ি থেকে বিয়ে দিলেও ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছেটা মনের মধ্যে থেকে গিয়েছিল। গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনের সময়ে মনে হয়েছিলো প্রার্থী হয়ে যাই। কিন্তু পরিবারকে জানানোর সাহস পাইনি। সুতরাং মনের ইচ্ছেটাকে চাপা দিয়ে আর দশজন ভোটারের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছি।'
ছোটবেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রং–বেরঙের পতাকা আকর্ষণ করতো তাঁকে। সেই পতাকা হাতে নিয়ে গ্রামের রাস্তা দিয়ে দৌড়নোর সময়ে 'ভোট দিন' স্লোগানটা বেরিয়ে আসতো মুখ দিয়ে। তখনই মনে হতো, একবার যদি আমিও ভোটে দাঁড়াতে পারতাম! বিয়ের ১০ বছর পরে একদিন মনের ওই সুপ্ত ইচ্ছের কথা স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের জানাতেই তাঁরা রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। গত ৬ তারিখ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে নিয়ে জলপাইগুড়ি এসে নিজের মনোনয়নও জমা দেন তিনি।
স্বপ্না বলেন, 'এ বারের বিধানসভা ভোটের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা বলে মনে হয়েছে। মন বলছে, আমি ভালোই ভোট পাব। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পরে নির্দল প্রার্থী দেখে এক আধিকারিক প্রতীক পছন্দ করতে বলেন। সাইকেল, টর্চলাইট–সহ একাধিক প্রতীক ছিলো। তার মধ্যে থেকে ফুলকপিটা–ই বেছে নিয়েছি। যদিও এর পিছনে অন্য কোনও লক্ষ্য ছিলো না।' স্ত্রীর ভোটে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে স্বপ্নার স্বামী প্রসেনজিৎ রায় বলেন, 'আমাদের সকলেরই মনের কিছু ইচ্ছে থাকে। স্ত্রী যখন নিজের থেকে এটা জানালো, তখন মনে হয়েছিল ওর ওই ইচ্ছেটা পূরণ করা দরকার।'