এই সময়, কলকাতা ও আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়ায় আদিবাসীদের জমি জোর করে দখল করে ব্যবসা! এ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় জেলাশাসককে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের রিপোর্ট দেখে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি খতিয়ে দেখতে জেলাশাসককে বলে এবং প্রয়োজন মতো পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। এ জন্য মামলাকারীকে যাবতীয় নথি জেলাশাসকের দপ্তরে জমা দিতে বলেছে আদালত।
হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারের মদতে, সম্পূর্ণ ভুয়ো নথিপত্র বানিয়ে কোথাও বা ভয় দেখিয়ে, আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনের জমি দখল করে সেখানে হোটেল, রিসোর্ট এমনকী কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। মামলায় একটি নির্দিষ্ট সংস্থার নামও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ, সেই সংস্থার বিরুদ্ধে ১৯৮৯–এর তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনে অভিযোগ জানালেও প্রশাসনের থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। আরও অভিযোগ, শুধু ওই একটি সংস্থাই নয় চিলাপাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মাদারিহাট, পূর্ব খয়েরবাড়ি, খাঁউচাঁদপাড়ার মতো এলাকায় আদিবাসীদের টোপ দিয়ে, ভুল বুঝিয়ে তাঁদের জমি নিয়ে ব্যবসা করছেন বাইরের বহু লোক। অথচ আদিবাসী এই সব জমির মালিকদের আর্থিক সংস্থান তেমন হচ্ছে না। এর বিরুদ্ধেই সোনারপুরের ঢালুয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি সংগঠন প্রথমে রাজ্যপালকে ২০২২–এ একটি চিঠি লেখে। পরে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে।
আগের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ মেনে এ দিন নির্দিষ্ট একটি জমির ক্ষেত্রে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এ দিন রাজ্য রিপোর্ট দিয়ে জানায়, সরকারি নথি অনুযায়ী ওই জমির মালিক স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ই। তাঁরাই দীর্ঘকাল ধরে ওই জমিতে কৃষিকাজ এবং বসবাস করেছেন। তারপরে সেখানে বাইরের লোক ঢুকে ব্যবসা শুরু করেন। ওই রিপোর্ট দেখার পরেই জেলাশাসককে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেয় আদালত।
বন দপ্তরের এক কর্তার দাবি, ‘আদিবাসীদের জমি দখল করে ব্যবসার এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। প্রশাসনেরই একাংশের যোগসাজশে আদিবাসীদের জমির চরিত্র বদল থেকে লিজ় পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ পেয়ে বছর দুয়েক আগে বন দপ্তর বেআইনি ভাবে জমি দখল করে চলা চারটি সম্পত্তি ভেঙে জমি প্রকৃত মালিকের হাতে ফেরায়।’