• ভোকাল টনিক, অ্যান্টিবায়োটিকে ‘নরমে–গরমে’ বার্তা অভিষেকের
    এই সময় | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • সুমন ঘোষ, খড়্গপুর

    সবাইকে দিলেন ভোকাল টনিক। কাউকে কাউকে অবশ্য অ্যান্টিবায়োটিকও দিলেন। যাঁরা প্রার্থী অপছন্দ বলে জানিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন— কোথাও কারও প্রার্থী অপছন্দ হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁরা যেন প্রার্থীর পরিবর্তে অভিষেকের মুখের কথা মনে রেখে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করেন। এ বারের বিধানসভা ভোটের প্রচারে একাধিক সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনিই ২৯৪টি আসনে প্রার্থী। সেটা মাথায় রেখেই যেন মানুষ তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করেন, সেই আর্জিও জানান। পাশাপাশি, দলের বিভিন্ন স্তরে এতদিন যত রকমের বিবাদ, মান-অভিমান রয়েছে, সব ভুলে দলকে জেতাতে ঝাঁপিয়ে পড়ার বার্তাও দেন।

    বঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ১৩ দিন আগে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ২১টি ব্লকের নেতা-কর্মী, ১৫টি বিধানসভার প্রার্থীদের নিয়ে খড়্গপুরের একটি হোটেলে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভায় দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এলাকার নেতাদের কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেন তিনি। তা মিলিয়ে দেখেন নিজের রিপোর্টের সঙ্গে। পাশাপাশি এখনও যে কয়েকটি বিধানসভা এলাকায় জোটবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের পরিবর্তে গোষ্ঠীভিত্তিক কার্যকলাপ চলছে, তা নিয়েও সতর্ক করেন অভিষেক। দলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, ‘অভিষেক জানিয়ে দিয়েছেন, কারও প্রতি রাগ দেখাতে গিয়ে এমন কিছু না করতে, যাতে দলের ক্ষতি হয়। তাতে আখেরে বিরোধীদের লাভ হবে।’

    পশ্চিম মেদিনীপুরের দুই সাংগঠনিক জেলার প্রার্থী, প্রাক্তন বিধায়ক, সাংসদ, জেলা সভাপতি, ব্লক সভাপতি, পুরপ্রধান, জেলা পরিষদ সদস্য থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতাদের ডাকা হয়েছিল এ দিনের বৈঠকে। প্রথম ধাপে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা ও পরের ধাপে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে থেকেই বিধানসভা অনুযায়ী একটি রিপোর্ট অভিষেকের হাতে ছিল। সংশ্লিষ্ট বিধানসভা সম্পর্কে ব্লক নেতৃত্বদের বক্তব্য শোনার পরে নিজের রিপোর্টের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখেন। তা দেখতে গিয়ে দাঁতন, নারায়ণগড়, কেশিয়াড়ি, গড়বেতার কয়েকটি বিধানসভার পরিস্থিতি যে এখনও সন্তোষজনক নয়, সেই বিষয়টিও উঠে আসে।

    এ ছাড়াও কাজের ক্ষেত্রে কয়েকজন নেতা-নেত্রীকে সতর্কও করে দেন অভিষেক। সূত্রের খবর, তাঁদের মধ্যে যেমন ঘাটালের প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দোলই রয়েছেন, তেমনই আছেন কেশিয়াড়ির জেলা পরিষদ সদস্য কল্পনা শিট, দাঁতন-২ ব্লক সভাপতি ইফতিকার আলি, মেদিনীপুরের পুরপ্রধান সৌমেন খান প্রমুখ। বাকিদের ক্ষেত্রেও সকলকে একজোট হয়ে দলবদ্ধ লড়াইয়ে নামার কথা বলেন অভিষেক। বৈঠক শেষে দলীয় নেতারাই বলছেন, ‘সেনাপতি সকলকে ভোকাল টনিক দিয়েছেন। কাউকে কাউকে আবার অ্যান্টিবায়োটিকও দিলেন।’ প্রসঙ্গত, এ দিন অভিষেকের বৈঠকে দাঁতন ও নারায়ণগড়ের বিদায়ী বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধান ও সূর্যকান্ত অট্টকে দেখা যায়নি বলে সূত্রের দাবি।

    বৈঠক নিয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া বলেন, ‘সেনাপতির এনার্জি বুস্টে সকলেই চাঙ্গা।’ কিন্তু গোষ্ঠীকোন্দল বা সমন্বয়ের সমস্যা কি মিটল? জুনের জবাব, ‘এ সব তো বিজেপির সমস্যা, আমাদের নয়। সেনাপতি আমাদের বলেছেন, জোট বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। এখন আমরা জেলার ১৫টি আসনেই জিততে চাই।’

    এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সময়ে আসতে পারেননি অভিষেক। তৃণমূলের অভিযোগ, এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা থাকায় সময়ে অভিষেকের হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি দেয়নি এটিসি। এই অনভিপ্রেত দেরি সত্ত্বেও এত মানুষের সঙ্গে কথা বলা, সবার কথা মন দিয়ে শোনা, ক্ষোভ প্রশমন করা— সবই তিনি করেছেন অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে। কেউ টিকিট পাননি, কাউকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে অনেকে অভিষেককে কাছে পেয়ে অনুযোগও করেন। সূত্রের খবর, সে সব শুনে অভিষেক জানান, দক্ষ সংগঠনকরা নিশ্চিত সম্মান পাবেন।

    মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘উনি (অভিষেক) পরিষ্কার জানিয়েছেন, সব স্তরের নেতাকেই নিজের বুথে জেতাতে হবে। নিজের বুথে না জিতলে তো আখেরে দলের ক্ষতি। নির্বাচনের পরে তা দেখেই কিন্তু নেতা-কর্মীদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)