অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
অসম, কেরালা এবং পুদুচেরির বিধানসভা ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এর পর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রের দাবি, আজ শুক্রবার রাজধানী দিল্লিতে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম বাছাই করার জন্য বৈঠকে বসতে চলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং বিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বৈঠকে যোগ দিতে পাটনা থেকে ইতিমধ্যেই দিল্লি পৌঁছেছেন উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, বিজয় কুমার সিনহা-সহ রাজ্য নেতৃত্ব। থাকছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই, মঙ্গল পাণ্ডে, সঞ্জয় জয়সওয়াল, দিলীপ জয়সওয়াল-সহ একাধিক নেতা। সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীদের নামের তালিকা চাওয়া হবে প্রদেশ নেতৃত্বের কাছে। সেই তালিকা ঘিরে ঐকমত্য যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত নামের ক্ষেত্রে আরএসএসের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গাতেই কিছুটা পিছিয়ে সম্রাট, কারণ তাঁর রাজনৈতিক শুরু বিজেপিতে নয়। আবার শাহের ঘনিষ্ঠ নিত্যানন্দ রাই–ও এই দৌড়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী, যাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বিজেপি-সমর্থিত অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র সদস্য হিসেবে। পাশাপাশি দৌড়ে রয়েছেন সঞ্জয় জয়সওয়াল, জনক রাম ও দিলীপ জয়সওয়াল। এই তিন নেতার প্রত্যেকেই আবার মোদী–ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক অলিন্দে শোনা যায়।
উল্লেখ্য, এমন এক দিনে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশ কুমারের উত্তরসূরি বাছাই করার জন্য বিজেপির বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেদিন দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন নীতীশ কুমার নিজে। নীতীশের সঙ্গেই শুক্রবার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন এবং আরএলএম নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহা। এ দিকে, নীতীশ কুমারের ‘পুনর্বাসন’ নিয়েও ভাবতে হচ্ছে বিজেপিকে। জেডি(ইউ) সূত্রের দাবি, তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যেতে আগ্রহী। এর আগে দেশের রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো নীতীশ যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি হবেন না, তেমনই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ। তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক দিতে গিয়ে এনডিএ-র অন্যান্য শরিকদের অসন্তুষ্ট করা যাবে না— এটাও বিজেপির কাছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ।
এই অবস্থায় শপথ গ্রহণ পর্ব মেটার পরেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের পর্বে নীতিন নবীন কী ভাবে বৈঠক পরিচালনা করেন, সে দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল। ঘটনাচক্রে নীতিন নবীন নিজেও বিহারের ভূমিপুত্র। এই অবস্থায় তাঁরই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম বাছাই পর্বে বিজেপি সভাপতি হিসেবে তিনি কাকে সুপারিশ করেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে প্রবল জল্পনা রয়েছে।