এই সময়, হলদিয়া: সকাল থেকেই বৃষ্টি। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় লোক সমাগম নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান বিজেপি নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার সাড়ে ন’টার মধ্যে হেলিপ্যাড মাঠে মোদীর সভায় কর্মী–সমর্থকদের ঢোকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বৃষ্টির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার দেখার উৎসাহে কমতি ছিল না। কিন্তু নাগাড়ে বৃৃষ্টিতে অনেকেই সভাস্থল ছেড়ে এদিক ওদিক আশ্রয় নেন। মঞ্চ এবং চারপাশে কর্দমাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। সওয়া দশটা নাগাদ বৃষ্টি বন্ধ হলে আয়োজকদের তরফে মাইকে ফের সভায় আসার ডাক দেওয়া হয়। জলকাদার মধ্যেই ক্রমশ ভিড় জমতে থাকে। সাড়ে এগারোটা নাগাদ হেলিপ্যাড ছোঁয় প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার। এই আবহে এদিন রাজ্যে তৃণমূলের সরকারকে রাজ্যবাসীর কাছে দুর্যোগ হিসেবে তুলে ধরে তা থেকে রক্ষা পেতে ডবল ইঞ্জিন সরকারের পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সভা থেকে রাজ্যে পরিবর্তনের সঙ্গে সিণ্ডিকেট রাজ, চুরি, তোলাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি স্বচ্ছ সুশাসনের পাশাপাশি ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়তে আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এমন আহ্বানের পরে এদিন মঞ্চ থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৬টি আসন জিতে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেবেন বলে ঘোষণা করেন বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মোদী বলেন, ‘বাংলায় রয়েছে তৃণমূলের নির্মম সরকার। উন্নয়ন নেই। বাংলাকে এরা নীচে নামিয়েছে। এখন বাংলা জুড়ে একটাই স্লোগান, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। ডবল ইঞ্জিন সরকার আনতে হবে এখানে। তখন প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী এক সঙ্গে কাজ করবেন। সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্প ত্বরান্বিত হবে।’
শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতির উপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ রাজ্যে কাজের সুযোগ নেই বলে ভিন্ রাজ্যে এখানকার মানুষ পাড়ি দেন। বিজেপি সরকার এলে শিল্পায়নের জোয়ার বইবে। তৈরি হবে কর্মসংস্থানের প্রভূত সুযোগ। এই বাংলায় প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত এমন নানা জনমুখী প্রকল্প রূপায়িত হবে।’ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ মাটি মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি। এখানে সংগ্রাম আছে, মর্যাদা রক্ষার লড়াই আছে। কিন্তু এখানে নারী সুরক্ষা নেই। আমরা সংবিধান মেনে এখানে সুশাসন দিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’ সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ সুরক্ষার প্রশ্নে তিনি সেভেন্থ পে কমিশন দেওয়ার কথাও জানান। শুভেন্দু বলেন, ‘পূর্ব মেদিনীপুরে মোদীজিকে শুধু ১৬-০ আসনে জয় উপহার নয়, জেলায় আমাদের ৪৯ শতাংশ থেকে ৫৫ শতাংশ ভোট বাড়বে।’ মোদীর সভায় উপস্থিত ছিলেন তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, কাঁথির সাংসদ সৌম্যেন্দু অধিকারী–সহ বিজেপির বিভিন্ন প্রার্থী ও নেতা–কর্মীরা।