• সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ নয় ভোটে, স্পষ্ট বার্তা কমিশনের
    এই সময় | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্য বিধানসভা ভোটের কাজে কোনও ভাবেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়ে আরও একবার এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে। চিঠিতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোটের তিন দিন আগে থেকে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরের দিন পর্যন্ত এদের ইউনিফর্ম পরে যেন ভোটের ডিউটি করতে না দেখা যায়, এটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সিভিক ভলান্টিয়ার নয়, গ্রিন পুলিশ, স্টুডেন্ট পুলিশকেও একই গোত্রে ফেলা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পূর্ণ ভাবে বাইরে রাখতে বলা হয়েছে।

    সূত্রের খবর, কমিশনের কাছে রাজ্য প্রথমেই জানিয়েছিল, ভোটে তারা সব মিলিয়ে ৩৬ হাজারের বেশি পুলিশ বাহিনী দিতে পারবে না। কারণ, এর বেশি পুলিশ দিতে হলে দৈনন্দিন আইন-শৃঙ্খলা এবং থানার ডিউটি করার মতো পুলিশ পাওয়া যাবে না। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজ্য পুলিশে নিয়োগ কমেছে। বেড়েছে চুক্তির ভিত্তিতে সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগ। কলকাতা পুলিশের অধীনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকা যুক্ত হওয়ায় পরে থানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১টি। কিন্তু তুলনায় পুলিশের সংখ্যা তেমন বাড়েনি।

    ২০২৪–এর তথ্য বলছে, কলকাতা পুলিশ বাহিনীর মোট সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৭,৪০০। কিন্তু সিভিক ভলান্টিয়ার রয়েছে গড়ে সাড়ে সাত থেকে দশ হাজারের মতো। রাজ্য পুলিশেও নিয়োগ অনিয়মিত। নিয়মিত শুধু সিভিক ভলান্টিয়ারে নিয়োগ করা হচ্ছে চুক্তির ভিত্তিতে। কোথাও তাদের নাম গ্রিন পুলিশ, আবার পঞ্চায়েত এলাকায় তাদেরই নাম হয়েছে ভিলেজ পুলিশ। এ ছাড়াও রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার এনভিএফ (ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ফোর্স)। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, এদের কোনও ভাবেই ইউনিফর্ম পরিয়ে ভোটের কাজ করতে দেওয়া যাবে না।

    প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনওরকম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনার মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে কড়াকড়ি আরও বাড়াল নির্বাচন কমিশন।

  • Link to this news (এই সময়)