• আজ ইস্তাহার প্রকাশ বিজেপির, থাকছেন শাহ, জোর মহিলা-যুবদের বিষয়েও
    বর্তমান | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলার বিভিন্ন নির্বাচনি প্রচারে কিংবা সভা, সমাবেশে বিজেপি নেতারা বারবার ধর্মীয় বিভাজন না করার পক্ষেও সওয়াল করছেন। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতির বিপক্ষে কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের হিন্দুত্ববাদী দল হিসাবে তুলে ধরতে মরিয়া হয়েছে বিজেপি। এবারের নির্বাচনি ইস্তাহারেও সেই চিত্র দেখা যাবে। সংখ্যালঘু উন্নয়নে বিজেপি উল্লেখযোগ্য কোনো বার্তা দেবে না বলেই দলীয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে। আজ শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনি ইস্তাহার প্রকাশ করবেন অমিত শাহ। ইস্তাহারে মূলত মহিলা এবং যুবদের ‘ফোকাস’ করা হচ্ছে বলে খবর।

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে ছয় দফায় দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পেরেছে বিজেপি। বুধবার শেষ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের একটিতেও মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। কেন দেওয়া হয়নি? বিজেপির পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে সাফাই দিয়ে বলা হয়েছে, বিজেপির প্রার্থী তালিকায় আলাদাভাবে হিন্দু, মুসলমানের কোনো বিষয় নেই। প্রতিটি কেন্দ্রে যোগ্যতম ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে। যোগ্যতার মাপকাঠিতে ধর্ম দেখা হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কোনো কেন্দ্রেই যোগ্যতম ব্যক্তি হিসাবে একজন মুসলিম মুখ খুঁজে পাওয়া গেল না। এমনকি রাজ্যের যেসব সংখ্যালঘু প্রভাবিত বিধানসভা আসনগুলিতেও মুসলিম মুখ পাওয়া গেল না। বিজেপির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বলছে, বাংলার সংখ্যালঘু প্রভাবিত এলাকাগুলিতে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি একেবারেই সন্তোষজনক নয়। একাধিক এলাকায় বুথ কমিটিই তৈরি হয়নি।করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। দলীয় মূল্যায়নে আরও স্পষ্ট হয়েছে, এসআইআরে যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের একটি অংশ সংখ্যালঘু। ফলে সেই অসন্তোষ সার্বিকভাবে ভোট বাক্সে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে, মুসলিম তথা সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে সেভাবে ভোট পাওয়া যাবে না, তা বুঝেই কি প্রার্থী তালিকায় সেইমতো প্রতিফলন ঘটিয়েছে বিজেপি? গত বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত আট থেকে ১০টি কেন্দ্রে মুসলিম মুখকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি।
  • Link to this news (বর্তমান)