• তৃণমূলকে কমিশনের সরাসরি নিশানার প্রতিবাদ চিদম্বরমের
    বর্তমান | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • চেন্নাই: বাংলার পর এবার আরও এক ভোটমুখী বিরোধী শাসিত রাজ্য। এবার তামিলনাড়ুতেও মুখ্যসচিব ও পুলিশের ডিজিকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর তরজা। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের তোপ, বিজেপির বশংবদ কমিশন ‘বাড়াবাড়ি’ করছে। পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোটের বার্তা দিতে গিয়ে বুধবার শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের নাম উল্লেখ করে খোলাখুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নজিরবিহীন এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব বিরোধী শিবির। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির ভাষায় কথা বলছে কমিশন। তারা এবার নিরপেক্ষতার ছদ্ম মুখোশ খুলুক। এবার বাংলার মতো তামিলনাড়ুতেও ভোটের আগে শীর্ষ আমলাদের বদলির নির্দেশের প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা। কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। এপ্রসঙ্গে তিনি কয়েক বছর আগে একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সতর্কবার্তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।  সেখানে শীর্ষ আদালত বলেছিল, কমিশন যেন সমান্তরাল রাষ্ট্র হয়ে না পড়ে। চিদম্বরম বলেছেন, ওই পর্যবেক্ষণ ছিল দূরদর্শী।  তামিলনাড়ুর নিষ্ঠাবান, দক্ষ ও পক্ষপাতহীন মুখ্যসচিবকে বদলি ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কমিশনের দুর্ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের সেই আশঙ্কাই সত্যি।

    দলকে কমিশনের সরাসরি হুঁশিয়ারি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ভিডিয়ো বার্তায় তাঁর কটাক্ষ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি কিছু সোজাসাপটা কথা। ৪ মে আমাদের বিজয় মিছিলে যোগ দিন। 

     বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সংঘাতের আবহে বুধবার ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ুতেও ভোটের আগে শীর্ষ আমলা স্তরে বড়ো রদবদল করে কমিশন। মুখ্যসচিব ও ডিজিপি (সশস্ত্র পুলিশ, ভিজিলেন্স ও দুর্নীতি দমন)  পদ থেকে বদলি করে দেওয়া হয় এন মুরুগানন্দম এবং এস ডেভিডসন দেবাসিরভাথামকে। তাঁদের জায়গায় আনা হয় যথাক্রমে এম সাই কুমার ও সন্দীপ মিত্তলকে। কমিশনের বক্তব্য, ভোট প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে এই বদলির নির্দেশ। যদিও তাতে রাজনৈতিক বিতর্ক থামছে না। নতুন মুখ্যসচিব সাই কুমার ছিলেন পূর্বতন এআইএডিএমকে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামীর সচিব। এবারের নির্বাচনে বিজেপির হাত ধরে লড়ছে এআইএডিএমকে। বদলি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের তোপ, শুধুমাত্র বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতেই এধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি জোটের নির্বাচনি কারচুপিতে মদত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কমিশন। কমিশনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে স্ট্যালিনের অভিযোগ, আমাদের দেশ এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা বিপদের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)