• প্রত্যেক দেশবাসীর আয়ের হিসাব এবার নেবে মোদি সরকার
    বর্তমান | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে আছে। সেন্সাস আছে। প্রতি ১০ বছর অন্তর তা হয়ে থাকে। দু’টিতেই নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও পরিবারের বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। অর্থাৎ, ডেটা সংগ্রহ। একের পর এক রাজ্যে এসআইআর চলছে। সেটাও ডেটা। এখানেই শেষ হচ্ছে না। এবার দেশবাসীর তাবৎ ব্যক্তিগত তথ্যও নিজেদের ডেটাবেসে রাখতে চাইছে মোদি সরকার। সেই মরিয়া প্রবণতার নবতম অধ্যায় ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ইনকাম সার্ভে। এপ্রিল থেকেই দেশজুড়ে শুরু হবে এই তথ্য আদায়। অর্থাৎ একই সময় সেন্সাস, এসআইআর এবং এই সার্ভে চলবে। জনগণকে লাগাতার সরকারি সমীক্ষকদের নিজেদের হাঁড়ির খবর দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। কী হবে এই নতুন সমীক্ষায়? একটি পরিবারের আয়ের প্রতিটি তথ্য সরকারকে জানাতে হবে। অর্থাৎ একটি পরিবারের যতজন সদস্য আছে, তাদের সকলকেই  ঘোষণা করতে হবে যে, সে কী আয় করে, আয়ের উৎস কী, কতদিন ধরে করছে। কেন এই উদ্যোগ? কারণ যাঁরা আয়কর দেন, একমাত্র তাঁদের ঘোষিত আয়ের সম্পর্কে তথ্য সরকারের কাছে থাকে। যে কোনও ব্যাংক লেনদেনের উপরও নজর থাকে আয়কর বিভাগের। কিন্তু আয়করদাতার সংখ্যা দেশে নগণ্য। খুব বেশি হলে ১০ কোটি। তার বাইরেও ওই পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য কোনো না কোনোভাবে আয় করে থাকেন। তা টিউশন হোক, অথবা নাচগানের ক্লাস। অথবা অন্য কোনো ব্যবসা তথা পরিষেবা প্রদান। যে আয়ের তথ্য সরকারের কাছে নেই। এবার সব আয়ের সুলুকসন্ধান করে নিজের তথ্যভাণ্ডারে রাখবে কেন্দ্র। অর্থাৎ সব বলতে হবে। 

    কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান এবং প্রকল্প রূপায়ণ মন্ত্রকের অধীনে ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস অফিস এই সমীক্ষা চালাবে। সমীক্ষকরা ঘরে ঘরে গিয়ে শুধুই যে কে কত আয় করেন, সেটাই নথিভুক্ত করবেন এমনটা নয়। কোনো ব্যক্তি অথবা পরিবারের সদস্যরা নিয়ম করে কাউকে টাকা পাঠান কি না, সেটাও জানাতে হবে। কেন ওই টাকা পাঠানো হয়, তারও ডিক্লারেশন চাইবে সমীক্ষা। আয়ের উৎস কী? স্বনিযুক্ত জীবিকা? কৃষিকাজ? নাকি কারও পাঠানো টাকায় সংসার চলে? সবটাই জানবে কেন্দ্র। এছাড়াও দিতে হবে অতিরিক্ত যে কোনোরকম আয়ের উৎস। অর্থাৎ, চাকরি, ব্যবসা, কৃষির মতো কাজের পাশাপাশি অন্য কোনো ক্ষেত্র থেকে আয় হচ্ছে কি না। তা বাড়িভাড়া হতে পারে, কিংবা নিজের জমি অন্যকে চাষ করতে দেওয়ার মাধ্যমে উপার্জন। বিগত এক বছরে অর্থাৎ শেষ ৩৬৫ দিনে কত টাকা একটি পরিবার আয় করেছে? এটাও জানতে চাওয়া হবে। 

    এই সমীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং তথ্য বিশ্লেষণের জন্য তৈরি হয়েছে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট গ্রুপ। কেন এই প্রকল্প? মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, আরও বেশি করে সমাজের কোন স্তরের মানুষের কাছে কতটা সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া দরকার, তার রূপরেখা তৈরি হবে। যদিও প্রশ্ন উঠছে, এভাবে প্রতিটি সংসারের নগণ্য ও  ক্ষুদ্র আয়ের উৎসও জেনে নিতে চাইছে কেন কেন্দ্র? কে কাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করছে সেটাও বা জানার উদ্দেশ্য কী?
  • Link to this news (বর্তমান)