• হবিবপুরে আদিবাসী মন জয়ে প্রার্থীদের বিশেষ পোশাক, নাচ
    বর্তমান | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার, হবিবপুর: হবিবপুরে আদিবাসী ও রাজবংশী ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। তাই তাঁদের মন জয়ের সবরকম চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। আদিবাসী পোশাক পরে, নৃত্য বা বিশেষ বাজনা বাজিয়ে চালাচ্ছেন জনসংযোগ।

    বৃহস্পতিবার বামনগোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভোট প্রচার করেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অমল কিস্কু। আদিবাসীদের প্রায় বিস্মৃত হতে বসা ‘পঞ্চি’ পোশাক পরে বাড়ি বাড়ি যান তিনি। পঞ্চি অর্থাৎ সাদা জামার সঙ্গে কোমরে লুঙ্গির মত সাদা রংয়ের বিশেষ কাপড়, আর কাঁধে ফতুয়া। এক সময় আদিবাসী সমাজে এই বিশেষ পোশাকের ব্যাপক প্রচলন ছিল। এখনও যে কোনো শুভ অনুষ্ঠানে এই পোশাক পরেন আদিবাসীরা। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, পুরনো এই পোশাক আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। আদিবাসীদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারবেন একমাত্র তৃণমূলের বিধায়ক। তাই এই পোশাক পরে সেই বার্তাকে সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    বামনগোলা ব্লকের মদনাবতী ও গোবিন্দপুর মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সহ নালাগোলার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও জনসংযোগ করেন হবিবপুরের বিজেপি প্রার্থী জোয়েল মুর্মু। আদিবাসী এলাকায় পৌঁছতেই সেখানে তিনি মাদল বাজিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে নাচ শুরু করেন। বলেন, আদিবাসীদের নাচ বিশেষ ঐতিহ্য বহন করে। বহু বছর ধরে এর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরা হয় সহজে। যে কোনো শুভ অনুষ্ঠানে আদিবাসীরা এই নাচ করে থাকেন। এখন ভোট উৎসব চলছে। তাই মাদল বাজিয়ে আদিবাসী নাচের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিলাম। 

    হবিবপুর বিধানসভায় আদিবাসী ও রাজবংশী ভোটার বেশি থাকায় আসনটি তাঁদের জন্য সংরক্ষিত। বিধানসভা নির্বাচনে যে দল এই ভোটকে নিজেদের বাক্সে আনতে সফল হয়েছে, তারাই জয়ী হয়েছে। 

    স্থানীয় বাসিন্দা অশোক মজুমদারের কথায়, এলাকায় আদিবাসীর সংখ্যা বেশি। সেই কারণে সব দলই চায় তাঁদের আবেগকে কাজে লাগাতে। তবে আদিবাসী ও রাজবংশীরা যে দলকে সমর্থন করেন, তাদের জেতার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। 
  • Link to this news (বর্তমান)