• প্রতিশ্রুতি দিয়েও পালন করেনি বিজেপি, রাজবংশীদের প্রশ্নে অস্বস্তি গেরুয়া শিবিরে
    বর্তমান | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: নারায়ণী ব্যাটালিয়ন থেকে চিলা রায়ের মূর্তি, আড়াইশো কোটি ব্যয়ে মনীষী পঞ্চানন বর্মার মূর্তি ও সংগ্রহশালা-প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও একটিও পালন করেনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। শুধু তাই নয়,রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্তির জন্য রাজ্য সরকারের তরফে চিঠি দেওয়া হলেও, এখনও তার জবাব দেয়নি কেন্দ্র। পঞ্চানন বর্মার জন্মভিটা খলিসামারিতে একশো কোটি টাকা ব্যয়ে শক্তি সঞ্চারিণী দেবীর মন্দির গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সেটাও হয়নি। এসব নিয়ে রাজবংশীরা প্রশ্ন তুলতেই ভোটের মুখে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। পালটা সাফাই দিতে মরিয়া উত্তরের বিজেপি নেতারা।

    রাজবংশীদের ‘বন্ধু’ বলে দাবি করা বিজেপির ‘ভাঁওতাবাজি’ নিয়ে ভোটের ময়দানে তোপ দাগতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বছরের পর বছর ধরে রাজবংশীদের আবেগ নিয়ে বিজেপি ‘ছিনিমিনি’ খেলছে বলে গত মঙ্গলবার কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির নির্বাচনি জনসভা থেকে তোপ দাগেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের লেখা চিঠি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজবংশী ভাষাকে যাতে অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেজন্য ১ মাস ১৮ দিন আগে কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যসচিব। কিন্তু সেই চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী কোচবিহারে এলেও এর জবাব দিতে পারেননি।

    এ প্রসঙ্গে বিজেপির সহযোগী গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মনের সাফাই, রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্তির জন্য কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে রাজ্য, এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু সবকিছুর জন্য সময় লাগে। একটা চিঠি পাওয়ার দেড় মাসের মধ্যেই সবটা হয়ে যাবে, এটা তো হতে পারে না।

    বিজেপির উত্তরবঙ্গের ইনচার্জ তথা কোচবিহার দক্ষিণের পদ্ম প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসুর বক্তব্য, রাজবংশীরা জানেন আমরা যা বলি তাই করি। ভোটের ময়দানে তাঁদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। কিন্তু এসবে লাভ হবে না। রাজবংশীদের জন্য তৃণমূল কী করেছে, আগে তার জবাব দিক ওরা।

    যদিও কেন্দ্রের মোদি সরকারকে বিঁধে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজবংশী উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদ এবং রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমি গড়ে দিয়েছেন তিনি। মনীষী পঞ্চানন বর্মার নামে বিশ্ববিদ্যালয় করেছে রাজ্য সরকার। রাজবংশী স্কুল করে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি রাজবংশীদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতির একটাও পালন করেছে, পারলে দেখাক। ভোট এলেই দিল্লি থেকে উড়ে এসে পদ্ম নেতারা ভাঁওতাবাজি দেন। ভোট ফুরলেই কেটে পড়েন।

    ঊনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গে এসে রাজবংশীদের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। তার মধ্যে নারায়ণী ব্যাটালিয়ন থেকে চিলা রায়ের মূর্তি, খলিসামারিতে পঞ্চানন বর্মার মূর্তি ও সংগ্রহশালা সবটাই ছিল। কিন্তু সেসবের কিছুই হয়নি। এসব নিয়ে সরব হয়েছেন রাজবংশীরা। নিশীথ প্রামাণিক প্রতিশ্রুতি দিলেও খলিসামারিতে মনীষী পঞ্চানন বর্মার আরাধ্য শক্তি সঞ্চারিণী দেবীর মন্দির তৈরি না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

    যদিও এসব প্রশ্ন এড়িয়ে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা ওই কেন্দ্রে দলের এবারের প্রার্থী আনন্দময় বর্মন বলেন, রাজবংশী সম্প্রদায় সহ উত্তরবঙ্গের সমস্ত জনজাতির উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবনা আছে। রাজবংশী ভাষা অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী। সেইসঙ্গে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজবংশীদের আরও যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলিও পূরণ হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)