• লাচেন থেকে সব পর্যটক নিরাপদে ফিরলেন গ্যাংটকে
    এই সময় | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার চারদিন পরে লাচেন থেকে ফিরে এলেন আটকে পড়া সব পর্যটকরা। বৃহস্পতিবার লাচেন থেকে তারেম চু সেতু পেরিয়ে প্রায় হাজার খানেক পর্যটক গ্যাংটকে ফেরেন। গত রবিবার ভোরে গ্যাংটক থেকে তারেম চু সেতুতে ওঠার মুখে প্রায় একশো মিটার রাস্তা ধসে নদীতে গিয়ে পড়ে। আটকে পড়েন ১২৩৭ জন পর্যটক। তার মধ্যে মোটরবাইক আরোহী ছিলেন ৮৯ জন। গাড়ি চালক আটকে পড়েন আরও ১৫৭ জন। অধিকাংশ চালকদের অবশ্য এ দিনও ফেরা হয়নি। বুধবার আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আগে যে জনা ২৫ গাড়ি ডংকিয়া লা পাশ দিয়ে লাচুং পৌঁছতে পারে, সেই চালকেরাই গ্যাংটকে ফেরেন। ডঙকিয়া লা পাশে আবহাওয়া দ্রুত বদলে যেতে পারে আশঙ্কা করে বুধবারই সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে ধসবিধ্বস্ত অংশে একটি স্টিলের ফুট ব্রিজ তৈরি করা হয়। এ দিন লাচেন থেকে বার হয়ে পর্যটকেরা তারেম চু সেতু পার হওয়ার পরে ফুট ব্রিজ দিয়েই ধসবিধ্বস্ত অংশ পেরিয়ে আসেন।

    উল্টোদিকে সিকিম রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস এবং জিপের অঢেল ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেগুলিতে চড়েই পর্যটকেরা শেষ পর্যন্ত গ্যাংটকে ফেরেন। গত চারদিন আটকে থাকার জেরে অনেকেরই ট্রেন এবং বিমানের টিকিট বাতিল হয়ে গিয়েছে। কী ভাবে গন্তব্যে পৌঁছবেন, সেই দুপ্তিন্তায় পড়েছেন সকলে। তবে প্রশাসন, সিকিমের পর্যটন ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সমস্ত রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিকিম প্রশাসনের কাছে খবর ছিল, পর্যটকেরা সকলেই ডংকিয়া লা হয়ে ফিরছেন। রাতে জানা যায়, দুপুর একটা নাগাদ ডংকিয়া লার কাছে তুষারঝড় শুরু হয়। ফলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অধিকাংশ পর্যটককে লাচেনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ভিকি অনীশ নামে এক পর্যটক সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, তুষার ঝড় শুরু হলে অনেক পর্যটকের শ্বাসকষ্ট শুরু হতে থাকে। তিনি বলেন, 'ডংকিয়া লা প্রায় ১৮ হাজার ফুট উঁচুতে। এই পথে আর কখনও গ্যাংটকে ফেরার চেষ্টা করব না।' পর্যটকদের ফেরানোর ব্যবস্থা তদারকি করেন স্থানীয় বিধায়ক সোমডুপ লেপচা এবং মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন। বিধায়ক বলেন, 'প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে পর্যটকদের সবাইকেই ফেরানো হয়েছে। চালকদের ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)