মা-বাবা দেখাশোনা করে বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের পছন্দ ছিল না স্বামীকে। স্বামীর গায়ের রং যে ‘কালো’। তিনি ফর্সা। মানায় নাকি? শেষ পর্যন্ত প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে স্বামী পুরোহিত দেবকৃষ্ণকে (২৮) খুন করার অভিযোগ (Woman Plots Murder Of Husband With Lover) উঠল স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা দেবকৃষ্ণর বিরুদ্ধে। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে শুরুতে ডাকাতির গল্প ফেঁদেছিলেন। কিন্তু তা ধোপে টেকেনি। মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ধার অঞ্চলের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রিয়াঙ্কা এবং তাঁর প্রেমিক কমলেশ পুরোহিতকে গ্রেপ্তার (Arrest) করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার ধারের বাড়ি থেকে পুরোহিতের গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, বাড়িতে ডাকাত পড়েছিল। মুখে কাপড় বেঁধে ঘরে ঢুকেই তারা লুটপাট শুরু করে দেয়। তাদের বাধা দেন পুরোহিত। তখনই তাঁকে গলা কেটে খুন করে ডাকাতরা। শেষে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে পালায়। কিন্তু নিহতের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
জানা গিয়েছে, প্রিয়াঙ্কার খুব অল্প বয়সেই বিয়ে হয়েছিল। পুরোহিতের মশলার ব্যবসা। ধার অঞ্চলে তাঁর নামডাকও রয়েছে। ফলে প্রিয়াঙ্কার মা-বাবা এককথায় এই সম্পর্কে রাজি হয়ে যান। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় দাম্পত্য অশান্তি। নিহত দেবকৃষ্ণর বোন জ্যোতি বলেন, ‘দাদা-বৌদির সম্পর্ক কোনও দিনই ভালো ছিল না। বিয়ের পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছিল। মাঝে মধ্যেই বৌদি দাদাকে বলতেন, তুমি কালো। আমার যোগ্য নও। তোমার থেকে অনেক ভালো ছেলে জুটত আমার।’
তদন্তকারীদের দাবি, এই সব কথা আপাতদৃষ্টিতে পারিবারিক কলহ মনে হলেও, এটা ছিল ঝড়ের পূর্বাভাস। বিয়ের পরে রাজগড়ের বাসিন্দা কমলেশ পুরোহিত নামে যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা দু’জনে মিলে পথের কাঁটা সরানোর প্ল্যান করেন। এর পরেই সুরেন্দ্র ভাটি নামে একজনকে ভাড়া করেন তাঁরা। পুরোহিতকে খুন করতে ১ লক্ষ টাকার সুপারি দেন। অগ্রিম দেন ৫০ হাজার।
পুলিশের দাবি, পুরোহিতকে খুনের জন্য মঙ্গলবার রাতকে বেছে নেন তাঁরা। প্রিয়াঙ্কা বাড়ির দরজা খুলে রাখেন। নগদ টাকা এবং গয়না সরিয়ে রাখেন। অভিযোগ, তার পরেই সুরেন্দ্র এসে খুন করেন পুরোহিতকে। প্রিয়াঙ্কা পুলিশের কাছে দাবি করেন, তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল ডাকাতদল। স্বামীকে বাঁচাতে চাইলেও তাঁর কিছু করার ছিল না। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বারবার বয়ান বদলাতে থাকেন প্রিয়াঙ্কা। এতেই ধরা পড়ে যান। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গয়না এবং নগদ টাকাও উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হয় কল রেকর্ড। তার পরেই প্রিয়াঙ্কা এবং কমলেশ পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত সুরেন্দ্রর কোনও হদিশ মেলেনি।