আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় ক্ষমতায় এলে নতুন রোজগারের পথ খুলবে বিজেপি। তাতে বেকারত্ব ঘুচবে। বেকারদের মাসে তিন হাজার টাকা করে অর্থসাহায্য করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের ইস্তেহারে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহ। মহিলাদেরও মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে ইস্তেহারে।
সংকল্পপত্রে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংকল্পপত্র প্রকাশ করে জানান, ‘বাঙালি নববর্ষের দিন সঙ্কল্পের সঙ্গে আমাদের প্রচারের যাত্রা শুরু হবে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের দুঃস্বপ্ন ঘুচবে। আগামী পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার এই রাজ্যে বিকাশের রাস্তা খুলবে। মমতা দিদি ভয়, ভ্রষ্টাচার প্রতিস্থাপিত করেছেন। এটা আইনের শাসনের ভরসা। রোজগারের ভরসা। সোনার বাংলা তৈরি করব আমরা। আমার বিশ্বাস, বাংলার জনতা আমাদের এখানে পাঁচ বছরের জন্য সরকার তৈরির সুযোগ দেবেন। আমরা সেই ভরসার ভিত্তিতে রাজ্যের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করব।’
এদিকে, সংকল্পপত্রে বিজেপি জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে এইমস, আইআইটি, আইআইএম এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে আলাদা আলাদা জেলায়। রাজ্যে বন্দেমাতরম মিউজিয়াম গঠন করার কথাও জানানো হয়েছে সংকল্পপত্রে।
ইস্তেহারে কলকাতার জন্যও বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করেছেন শাহ। ১০ বছর ধরে শহরের অগ্রগতির পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। ইস্তেহারে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে। মহিলাদের সুরক্ষায় বিশেষ স্কোয়াড গঠন করা হবে। আলু চাষিদের জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা করার আশ্বাস রয়েছে বিজেপির ইস্তেহারে। বাংলায় সকল নাগরিকের জন্য এক আইন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সীমানা সুরক্ষিত করার পাশাপাশি গরু পাচার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে সংকল্পপত্রে। শাহ জানিয়েছেন, সকল সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ সুনিশ্চিত করা হবে বাংলায় ক্ষমতায় এলে। ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার কথাও বলা হয়েছে।
আয়ুষ্মান ভারত সহ অন্যান্য যোজনা চালু করার কথা বলা হয়েছে ইস্তেহারে। মহিলাদের সুরক্ষায় গঠন করা হবে ‘দুর্গা’ স্কোয়াড। এমনকী পশ্চিমবঙ্গের অর্থ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে সংকল্পপত্রে। তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরের কথাও বলা হয়েছে। কলকাতার যানজট কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনা শুল্ক পরিবহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সন্দেশখালির মতো ঘটনা আটকাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। চা এবং পাট শিল্পে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গকে ব্লু ইকনমির প্রধান রপ্তানি ক্ষেত্র বানানো হবে জানিয়েছেন শাহ।
এছাড়া বলা হয়েছে, রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। সব মণ্ডলে মহিলা থানা থাকবে। প্রতি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক থাকবে। দিনরাত সেখানে কাজ হবে। সুনির্দিষ্ট ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে ইস্তেহারে।
সংকল্পপত্রে আরও বলা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হবে। থিয়েটারের জন্য আধুনিক ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে। থিয়েটারের বার্ষিক অনুদান বাড়িয়ে এক লক্ষ করা হবে। আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কিষান প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রের ৬০০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ৩০০০ টাকা যোগ করে মোট ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। উত্তরবঙ্গে নতুন ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি হবে যেখানে সব সুবিধা থাকবে। উত্তরবঙ্গে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে ইস্তেহারে জানিয়েছে বিজেপি। রাজ্যে চারটি নতুন উপনগরী তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। হলদিয়া বন্দরের বিকাশের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। পর্যটন শিল্পে জোর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে সংকল্পপত্রে।