• ফের মৎস্যপ্রেমে শান মমতার, বললেন, ‘...পশ্চিমবঙ্গ দেশে এক নম্বর’
    এই সময় | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটে তুঙ্গে মৎস্য তরজা। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের পাল্টা মাছে-ভাতে বাংলা মৎস্য উৎপাদনে কতটা স্বনির্ভর তা হিসাব পেশ করে বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে বিজেপি শাসিত বিহারের মৎস্য রপ্তানিতে এগিয়ে থাকার উপমায় পাল্টা মাছ খেতে না দেওয়ার খোঁচা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ২৬-এর নির্বাচনে SIR, দুর্নীতি, অনুপ্রবেশের পাশাপাশি ইস্যুর তালিকায় হিট মাছ। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস খেতে দেবে না! তৃণমূলের এই অভিযোগের জেরে গেরুয়া শিবিরের প্রচারেই রুট ম্যাপ এখন মাছ বাজারমুখী। নির্বাচনের আগে এ হেন ‘মেছো’ আবহে বৃহস্পতিবার বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi in Haldia) অভিযোগ করেন, বাংলায় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখনও মৎস্য প্রতিপালনে আত্মনির্ভর নয় রাজ্য। এখনও পর্যন্ত অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় মাছ আমদানি করতে হয়। ভারতে মাছ উৎপাদন ১১ বছরে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের কারণে বাংলা সেই সফলতা পায়নি। এই অভিযোগেরই পাল্টা এ দিন রীতিমতো হিসাব দিয়ে আক্রমণ করলেন নেত্রী।

    শুক্রবার বারাসতের কাছারি ময়দানে দলীয় সভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলনেত্রীর কটাক্ষ, ‘কাল (বৃহস্পতিবার) মোদীবাবু বলে গিয়েছেন বাংলার থেকে বিহারে বেশি মাছ উৎপাদন হয়। আমি প্রশ্ন করতে চাই এত বড় মিথ্যে কথা কী করে বললেন মোদীবাবু?’ এর পরেই হিসাব পেশ করে মমতা বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের আমলে মাছের উৎপাদন ১ লক্ষ ৭২ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লক্ষ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন। এ রাজ্যে ১ লক্ষ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন নোনা জলের মাছে উৎপাদন হয়।’ এর সঙ্গেই তাঁর দাবি, ‘মাছের চারা উৎপাদনে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে দেশে এক নম্বর।’ হিসাব দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলায় মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে ২২৪ হেক্টর বড় জলাশয়। সেখানেই বড় মাছের চাষ হয়। এর পাশাপাশি চুনো-পুঁটি মাছের জন্যেও আলাদা জলাধার তৈরি করা হয়েছে।

    শুধু তাই নয়, তৃণমূলনেত্রীর কথায়, বিহারে মাছ উৎপাদন তো হয়, কিন্তু মানুষকে খেতে দেওয়া হয় না বলে অন্য জায়গায় রপ্তানি করতে হয়। এর সঙ্গেই বাংলা থেকে মাছ আমদানির হিসাব পেশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমদানির থেকে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন বেশি মাছ রপ্তানি করে বাংলা। বিদেশেও রপ্তানি করা হয় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন মাছ।’ বাংলার মাছে-ভাতে বাঙালি যে ইলিশের জন্যেও আর বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীল নয় তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুধু মাছ চাষই নয়, মাছ জোগান দেওয়া মৎস্যজীবীদেরও যথেষ্ট খেয়াল রাখে তৃণমূল সরকার তাও উল্লেখ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এ প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প ও সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা (সমুদ্রসাথী প্রকল্প)-এর কথা উল্লেখ করেন তিনি। সবশেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাঁর অনুরোধ, ‘এত বড় মিথ্যে কথা বলে গেল। পারলে আমার বক্তৃতাটা রেকর্ড করে বিজেপি অফিসে পৌঁছে দিন।’

  • Link to this news (এই সময়)