২০২৪ সালের জুলাই মাস। লোকসভা নির্বাচনে আশাহত ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনায় বসেছিল গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় সংগঠনের নেতা সুনীল বনশল, মঙ্গল পান্ডেদের সামনেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মাহাত্ম্য স্বীকার করে নিয়েছিলেন তৎকালীন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মহিলা ভোট পেতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান অস্ত্র যে শুধুই ভাতা নয়, ‘অধিকার’ সেই তত্ত্বে সিলমোহর দিয়েছিলেন রাজ্যের নেতারা। তৃণমূলের দ্বিতীয় মাস্টারস্ট্রোক ছিল অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে ‘যুবসাথী’র ঘোষণা। নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্কের পরিধি বাড়াতে নতুন মোড়কে বেকার ভাতা প্রকল্প হইচই ফেলে দিয়েছিল গোটা রাজ্যে। ক্যাশ পেইমেন্ট-এর মতো ভোট-চুম্বকও ফেলনা নয়, সেই প্রতিফলন দেখা গেল বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পেও। তাঁদের বক্তব্য, ‘ওরা দিচ্ছে, আমরা এলে আরও বেশি দেবো।’
প্রথমে আসা যাক ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর কথায়। গ্রামীণ, প্রান্তিক মহিলাদের সাংসারিক খরচ জোগাতে পাঁচ বছর আগেই উদারহস্ত হয়েছিলেন মমতা। প্রকল্পের শুরু দিকেই অনেক বিজেপি নেতাই বক্রহাসি হেসে বলেছিলেন, ‘কত দিন দিতে পারে দেখুন!’ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সভা থেকে সরব হয়েছিলেন ‘রেউড়ি’ রাজনীতি নিয়ে। তবে গত পাঁচ বছর মমতা দিয়েছেন, সহায়তার অঙ্কও বাড়িয়েছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জনপ্রিয়তা দেখে মধ্যপ্রদেশেও শুরু হয় ‘লাডলি বহেনা' যোজনা। একই পথ অনুসরণ হয়েছে মহারাষ্ট্র, দিল্লিতেও। ২৬-এ বাংলার ইস্তেহারে শুরুর দিকেই জায়গা পেল মহিলাদের আর্থিক সহায়তার বার্তা। মিলবে ডবল অঙ্কের টাকা অর্থাৎ মাসিক ৩ হাজার।
‘যুবসাথী’র নামে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সাহায্য ঘোষণার ফর্ম ফিলআপের লম্বা লাইন, হুড়োহুড়ি, বিশৃঙ্খলা— কিছু বাদ যায়নি গত দুই মাসে। যদিও তৃণমূল এটিকে বেকার ভাতা নয়, স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের ‘হাতখরচা’ বলে মানতে চান। এই ক্ষেত্রেও ডবল ধামাকা বিজেপির। আর্থিক সাহায্য হবে মাসিক ৩০০০ টাকা।
তবে, কিছু বাড়তি সংযোজনও রয়েছে। যেমন– প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য যুবক-যুবতীদের ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা। ‘স্টার্ট আপ’ তৈরি করতে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ। অবিবাহিত ছাত্রীদের স্নাতক স্তরে ভর্তির সময়ে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।
তৃণমূলের খোঁচা এই সব ঘোষণায় ‘কপি ক্যাট’। তৃণমূলের এক মুখপাত্রের কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ যা ভাবেন, তা গোটা ভারত, বিজেপি আগামিকাল, আগামী পরশু, পরের মাসে, পরের বছর, ৫ বছর পরে ভাবে।’ বিজেপিকে একসময় এই প্রকল্পের তাচ্ছিল্য করলেও এখন সেই ঘোষণা করতে হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
আরও বেশি আর্থিক সাহায্যের ঘোষণায় মানুষ কি মত বদল করবেন? যারা শাসকের পক্ষে, তারা মনে মনে বলবেন, ‘পাল্টানো দরকার, চাই….’। তৃণমূল অবশ্য সেটা মনে করছে না। তৃণমূলের ওই মুখপাত্রের কথায়, ‘মানুষ এ সব কপি ক্যাট, জেরক্স কপি নেবেন কেন? মানুষের কাছে অরিজিনাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন রয়েছে।’