‘লায়ন অফ লাদাখ’ বা ‘লাদাখের সিংহ’ নামে খ্যাত, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সোনম ওয়াংচুক-এর জীবনাবসান। শুক্রবার, লেহ শহরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কার্গিল যুদ্ধের অন্যতম নায়ক তথা মহাবীর চক্র জয়ী এই বীর সেনা কর্তা। বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। লাদাখের পাহাড়ে রয়ে গেল তাঁর অদম্য শৌর্যের কাহিনি। যা হয়তো আগামী দিনে আরও অনেক অনেক সিংহহৃদয় লাদাখিকে অনুপ্রাণিত করবে।
১৯৯৯ সালের ৩০ মে। হাড়হিম করা ঠান্ডা। কোনও আর্টিলারি সাপোর্ট নেই অর্থাৎ, সেনাদের কভার দেওয়ার জন্য কামান থেকে গোলা ছোড়ার কেউ নেই। ওই অবস্থায় মাত্র ৪০ জন জওয়ানকে নিয়ে ১৮ হাজার ফুট উঁচুতে অভিযান চালিয়েছিলেন কর্নেল সোনম ওয়াংচুক। টানা ৩ দিনের সেই যুদ্ধে ১৩৬ জন পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীকে খতম করেছিল তাঁর ওই ৪০ জনের সাহসী দল। এই অসামান্য বীরত্বের জন্যই তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান মহাবীর চক্রে ভূষিত করা হয়।
পরিবার সূত্রে খবর, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছিল। বাবার পারলৌকিক কাজের জন্যই গত ২৫ মার্চ লাদাখে ফিরেছিলেন তিনি। বাড়িতে লেগে ছিল আত্মীয়-পরিজনদের আনাগোনা। তবে বাবার মৃত্যুতে খুবই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক এবং শারীরিক চাপে ছিলেন। বুকে ব্যথা করছে বলে অভিযোগও করতেন।
টানা ৩০ বছর দেশের সেবা করেছিলেন কর্নেল সোনম ওয়াংচুক। ভারতমাতার এই বীর সন্তানের প্রয়াণে সোশ্যাল মিডিয়ায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানান, দেশের সেবায় এবং জাতীয় সংহতি রক্ষায় এই লড়াকু অফিসারের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।