• শাহের ঘোষণার পরেই প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে ঝাড়গ্রামে স্মৃতি, বললেন...
    এই সময় | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা ভোট ঘোষণার মুখে রাজ্যে বেকার যুবকদের প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা যুবসাথী দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো মার্চ মাস থেকেই অনেকেই পাচ্ছেন যুবসাথীর টাকা। এ বার সেই যুবসাথীর ধাঁচেই কর্মসন্ধানী, বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে বিজেপি। শুক্রবার দলের ইস্তাহারপত্র প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাহের সেই ঘোষণার পরেই প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে ঝাড়গ্রামের সভায় গেলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের সমর্থনে বিনপুর ১ নম্বর ব্লকের চন্দ্রপুরে জনসভা করেন তিনি। বক্তৃতার শুরুতে মঞ্চের সামনে বসে থাকা মহিলাদের কাছে লক্ষ্মীকান্তকে জেতানোর জন্য ভোটপ্রার্থনা করেন তিনি।

    চন্দ্রপুরের ছোট্ট মাঠে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের ভিড় ছিল মোটের উপর ভালোই। ভাষণ দিতে উঠে তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ টানেন স্মৃতি। বলেন,'এখানকার রাস্তার বেহাল দশা। আপনাদের সম্পত্তি চুরি করছে। নদীর বালি চুরি করে খেয়ে ফেলছে। এদের এবারের নির্বাচনে মুছে ফেলতে হবে।' জঙ্গলমহলের যুবক-যুবতীরা কর্মের সন্ধানে ভিন রাজ্যে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছেন। এই অভিযোগ তুলে স্মৃতি বলেন,'আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে এই এলাকার মহিলাদের তিন হাজার টাকা, পাশাপাশি কর্মসন্ধানী, বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে।' এ রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করতে এবং প্রতিটি মানুষকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আয়ুষ্মান ভারত চালুর কথা বলেন তিনি।

    শুক্রবারের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউ, বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুখমায় সৎপতি, জেলা সভাপতি তুফান মাহাতো-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতারা। লক্ষ্মীকান্ত বলেন,'এখানকার উৎপাদিত আলু বাইরের রাজ্যে পাঠাচ্ছে না রাজ্য সরকার। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে চাষীদের। একটি মাত্র হিমঘর রয়েছে। আগামী দিনে চাষীদের স্বার্থে আরও হিমঘর তৈরি করা হবে। নদী ভাঙন রোধ করতে কংসাবতী নদীর দুই পাড় বাঁধানো হবে।'

    তৃণমূলকে জেতানোর জন্য জন্য পুলিশ তৃণমূলের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ তুলে লক্ষ্মীকান্ত বলেন,'ঝাড়গ্রামের প্রার্থী হিসেবে সমস্ত পুলিশ অফিসারদের, নির্বাচনী অফিসারদের সাবধান করে দিচ্ছি। কোনও পতাকা খুলতে যাবেন না। ক্ষমতা থাকলে দিনের বেলায় পতাকা খুলে দেখান। আমরাও দেখে নেব। তৃণমূলের এজেন্ট হয়ে কোনও পুলিশ কাজ করবেন না বলে দিচ্ছি। কারণ আমাদের সরকার আসার পরে সপ্তম পে কমিশন আমরাই দেবো। যদি কথা না শোনেন, তা হলে আপনাদের হাঁটুর নীচে সারা বছর রাখব।'

  • Link to this news (এই সময়)