২০২১ সালে ‘সোনার বাংলা’ সংকল্প পত্র প্রকাশ করেছিলেন অমিত শাহ। আড়ে-বহরে এ বারের ইস্তেহার প্রকাশ খানিকটা জাঁকজমকপূৰ্ণ। তৃণমূলের প্রতিশ্রুতির থেকে সংখ্যায় পাঁচটি বেশি। গুনে গুনে সব কয়টি দাবি খণ্ডন করে বিজেপিকে তুলোধোনা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অনুপ্রবেশ থেকে মহিলাদের আর্থিক সাহায্য প্রদান, কর্মসংস্থানের আশ্বাস থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রতিটি বিষয়ে ভিন রাজ্যের উদাহরণ টেনে ‘জুমলা’ বলে সমালোচনা করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির প্রতিশ্রুতির কোনও দাম নেই। এদের প্রতিশ্রুতি অনেকটা চিটফান্ডের মতো।’
মহিলাদের জন্য ৩০০০ টাকা আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি বক্তব্যের ভিডিয়ো দেখান অভিষেক। দিল্লির নির্বাচনের আগে প্রচারসভায় গিয়ে মহিলাদের জন্য আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হলেও সার্বিক ভাবে সেটির বাস্তবায়ন হয়নি কেন? সেই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।
ইস্তেহারে কৃষকদের ফসলের ন্যায্য সহায়ক মূল্য দেওয়ার কথা বলা হলেও কৃষি আইনের কারণে এত কৃষকের মৃত্যু হলো, কেন ৭০০-র বেশি কৃষক বিভিন্ন রাজ্যে আত্মহত্যা করেছিলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। অন্য দিকে, চা বাগান শ্রমিকদের জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অসমে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারে কেন বন্ধ চা বাগান খোলা হয়নি, খোঁচা অভিষেকের।
বিজেপি সরকার গঠন করলে রাজ্যের দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা অভিষেক বলেন, ‘ ওরা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মানে না। ইডি, সিবিআই তল্লাশি করতে এলে রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে আসে না।’
ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে রাজ্যে UCC কোড চালু করার কথা জানিয়েছে বিজেপি। পাল্টা অভিষেক বলেন, ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করলে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষ। ওরা চাপিয়ে দিয়ে এটা কার্যকর করতে চাইছে, বিজেপি ইতিবাচক পরিবর্তন চায় না।’
হুমায়ুনের ভিডিয়ো প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘হুমায়ুন বলছেন ভিডিয়ো এআই দ্বারা তৈরি। শুভেন্দু অধিকারীও তা-ই বলছেন। ঠাকুর ঘরে কে, আমি কলা খাইনি। ওঁর দল ছেড়ে লোকজন চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় জোটসঙ্গী মিম ছেড়ে চলে যাচ্ছে, ওদের নিজের লোকই মানছে না যে ওটা এআই দিয়ে তৈরি। মিম, হুমায়ুন, সব বিজেপির বি টিম। এটা স্পষ্ট।’