• সহ-সভাপতির পদত্যাগ, বিপাকে চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী
    আজকাল | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি: ভোটের মুখে দল ছাড়ার ইঙ্গিত। আচমকা পদত্যাগ করলেন জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সুরেশ সাউ। জানা গিয়েছে, চুঁচুড়া কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। সুরেশর এই সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছেন চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ। বৃহস্পতিবার রাতে সুরেশ বাবু জেলা বিজেপির সহ সভাপতি পদ সহ দলের যাবতীয় দায়িত্ত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। জেলা বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে পদত্যাগ পত্র তুলে দেন জেলা সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জির হাতে। একই সঙ্গে সেই পদত্যাগ পত্রের প্রতিলিপি পাঠিয়ে দেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, আসন্ন নির্বাচনে রাজ্য বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা সাংসদ সুনীল বনশল, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী এবং যুগ্ম সম্পাদক সতীশ ধন্ধকে। 

    দলীয় সূত্রে খবর, সমস্যার সূত্রপাত চুঁচুড়া কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়া নিয়ে। জেলা সদরে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে সুবীর সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহর সঙ্গে। সুবীরকে চুঁচুড়া কেন্দ্রে প্রার্থী করার বিরোধিতা করেন খোদ বিজেপি জেলা সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জী। তাও আটকানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সুবীরকেই চুঁচুড়া কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। দীপাঞ্জনকে প্রার্থী করা হয় চন্দননগরে। তৃতীয় দফায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ চরমে ওঠে। জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায় বিজেপি কর্মীরাও। চুঁচুড়ার বিজেপি কর্মীদের একটা বড় অংশ দীপাঞ্জনের সঙ্গে চন্দননগর চলে যায়। সেই সমস্যা সামাল দেওয়ার আগেই আবারও সহ-সভাপতির পদত্যাগ নিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন বিভ্রান্তি। 

    সুরেশ ২০১৩ সাল থেকে বিজেপিতে সক্রিয় ভূমিকায়। এর আগে তিনি জেলা যুব মোর্চার সভাপতি পদে ছিলেন। ছিলেন জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদকও। একই সঙ্গে তিনি হাওড়া-হুগলি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও ছিলেন। এদিন পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে, চুঁচুড়ার প্রার্থীকে যে তাঁর পছন্দ নয়, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর কথা বার্তায় দলের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলার বিষয়টিও বড় ভাবে উঠে আসে। 

    তিনি বলেছেন, বিজেপি দলের জন্য তিনি অনেক কিছুই করেছেন। প্রাণপাত করে পরিশ্রম করেছেন। তাই জেলায় দল বর্তমানে এই জায়গায় পৌঁছেছে। তিনি মনে করেন সারা বছর যারা দলটা করে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের মতামতকে কিছুটা গুরুত্ব দিতে পারত। তাতে দলেরই ভাল হত। কর্মীদের মনোবল বাড়তো, সম্মানটাও বজায় থাকত। কেন্দ্রের তরফে জেলা নেতৃত্বের মতামতকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি নিজে প্রার্থী হতে চাননি। চেয়েছিলেন, জেলা সদরে ভাল একজন প্রার্থী। শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে, জেলার সেই চাওয়াটা অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত শিরোধার্য। তাই দলের পদ থেকে তিনি অব্যহতি নিয়েছেন। তবে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি আর বিজেপি দলে থাকবেন কিনা সেটাও ভেবে দেখবেন। 

    এদিকে সুবীরের সমস্যা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরই দীর্ঘদিনের সহকর্মী তথা জেলার তফশিলি মোর্চার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুপদ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার তিনি চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিষ্ণু বিজেপির দীর্ঘদিনের কার্যকর্তা। গতকাল সকালে সদর মহকুমাশাসকের দপ্তরে পৌঁছে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন। 

    মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি জানান, চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে কেনও তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলবেন না। 

    এই প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জী বলেছেন, বিষ্ণুপদ বিশ্বাস বিজেপি দলের সক্রিয় কর্মী। তাঁর নির্দল মনোনয়নের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে এখনও তাঁর সঙ্গে কথা বলা তাঁর সম্ভব হয়ে হয়নি। তবে তিনি কথা বলবেন। এই ক্ষোভের কারণ জানার চেষ্টা করবেন। 

    সুরেশের পদত্যাগ প্রসঙ্গে গৌতম বলেছেন, ও একটা পদত্যাগ পত্র দিয়েছে এটা ঠিক। তবে দলের তরফে সেটা গৃহীত হয়নি। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। সুরেশ দলের দক্ষ কর্মী। দীর্ঘদিনের কার্যকর্তা। ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতেই পারে। সেটা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র খুঁজে বের করা হবে। 

    সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী ১২ এপ্রিল সুরেশ বিজেপির সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ত্যাগ করবেন। একই সঙ্গে অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে অফিসিয়ালি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন। সাহাগঞ্জ ডানলপ ময়দানে অভিষেক ব্যানার্জীর সভায় আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেবেন।
  • Link to this news (আজকাল)