পয়লা বৈশাখে মিষ্টির বড় অর্ডার নিতে চাইছেন না দোকানীরা, কেন?
আজ তক | ১১ এপ্রিল ২০২৬
পয়লা বৈশাখের ঠিক আগে মিষ্টির বাজারে যেন অদ্ভুত এক বৈপরীত্য। উৎসবের আমেজ থাকলেও বাস্তবে দেখা দিয়েছে তীব্র সঙ্কট। রাজ্যের একাধিক মিষ্টির দোকান এখন রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে দিশেহারা। ফলে ‘মিষ্টিমুখ’-এর বদলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে শুধু আশ্বাস।
পয়লা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া, সব কিছুর মধ্যেই মিষ্টি একটি অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে এলপিজির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মিষ্টি শিল্প কার্যত চাপে পড়েছে।
শেক্সপিয়ার সরণীর এক মিষ্টির দোকানদার জানান, পয়লা বৈশাখ তাদের বছরের অন্যতম বড় ব্যবসার সময়। এই সময় দোকানে বিশেষ ধরনের মিষ্টি তৈরি হয়। কিন্তু গ্যাসের অভাবে প্রস্তুতিই নিতে পারেননি তাঁরা। সাধারণত দোলের পর থেকেই মিষ্টির আংশিক প্রস্তুতি শুরু হয়, কিন্তু এ বছর সেই সুযোগ মেলেনি। এছাড়াও শহরের বড় বড় মিষ্টির প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে, এবার আর বড় মিষ্টির অর্ডার তাঁরা নিচ্ছেন না।
'পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি'র তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য জুড়ে হাজার হাজার ব্যবসায়ী গ্যাসের অভাবে বিপাকে। রোজই ফোন আসছে, কীভাবে গ্যাস জোগাড় হবে, উত্তর দিতে পারছেন না তাঁরা।
সঙ্কট সামাল দিতে অনেক দোকানই এখন বিকল্প পথে হাঁটছে। গ্যাসের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজেলচালিত উনুন বা ‘ডিজেল ভাট্টি’। তবে তাতেও খরচ বেড়েছে বহুগুণ। আগে যেখানে একটি ভাট্টির দাম ছিল ৪,৫০০ টাকার মধ্যে, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১,৫০০ টাকায়।
এদিকে গ্যাস সিলিন্ডারের দামও আকাশছোঁয়া। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কয়েক মাসে ১,৬৪১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২,২১৮ টাকা। কালোবাজারে তা ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
পরিস্থিতির চাপে বহু জনপ্রিয় মিষ্টির উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন রসগোল্লা, পান্তুয়া, রাবড়ির মতো মিষ্টি এখন সীমিত পরিমাণে তৈরি হচ্ছে। কিছু দোকান আবার দই বড়া, মালপোয়া বা নোনতা আইটেম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
তবে সবকিছুর মধ্যেও কিছু প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। একাধিক গ্যাস সংযোগ ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন বজায় রাখার চেষ্টা করছে অনেকে। কিছু প্রতিষ্ঠান আগাম অর্ডার ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সঙ্কট মোকাবিলার পথ খুঁজছে।